তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘোষণা

পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২০-১০-১৭ ১৬:১৩:৫০ || আপডেট: ২০২০-১০-১৮ ১৭:৪৩:৪৯

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (কোয়াব) আগামীকাল রোববার থেকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি (ডিশ) সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্বাভাবিক লেনদেন ব্যহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেতেমনি ক্ষতি হবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ সরকারেরও।

দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ঝুলন্ত ক্যাবল (তার) অপসারণ করছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইন্টারনেট ও ক্যাবলটিভি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এর প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠন দুটি।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনঘণ্টা ইন্টারনেট না থাকলে লেনদেনও বন্ধ থাকতে পারে। এতে বাজারের স্বাভাবিকতা নষ্ট হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় স্টেকহোল্ডাররা ছাড়াও আতঙ্কে রয়েছেন ছোট ছোট বিনিয়োগকারীরা। তবে বিষয়টি নিয়ে বিকল্প চিন্তা করছে ডিএসই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক কর্মকর্তা সানবিডিকে বলেন, আজ বিকাল পর্যন্ত আমরা দেখবো। যদি এর ভিতরে সমাধান না হয়, তাহলে বিকল্প চিন্তা করবো।

ডিএসইর তথ্য মতে, সপ্তাহের ৫ কার্যদিবস সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন করে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। আর এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাল করে। আইএসপিএবি ও কোয়াব যদি সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত তাদের সেবা বন্ধ রাখে তাহলে ডিএসই ও সিএসই লেনদেন কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
ইতিমধ্যে সেবা বন্ধ রাখার বিষয়টি এসএমএস ও ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াব।

এদিকে আইএসপিএবি, কোয়াব ও এনটিটিএন অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে মাটির নিচ দিয়ে তার সম্প্রসারণ না হওয়া পর্যন্ত তার না কাটার এক প্রকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে কর্মসূচি ঘোষণার পরও অনড় অবস্থানে আছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি র্কপোরেশন (ডিএসসিসি)।

আইএসপিএবি’র সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করেই সিটি কর্পোরেশন তার কেটে দিয়েছে। ফলে, এরিমধ্যে আইএসপিএবি এবং কোয়াবের আনুমানিক ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ৩৩টি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক, এক লাখের বেশি চাকরিজীবী এবং এক হাজার আইএসপিএবি ও কোয়াব সদস্য চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসের পরিচালক দিদারুল আলম সানি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে আমরা এগোচ্ছি, এমন সিদ্ধান্ত সেই পথে একটা বড় বাধা। তবে তাদের এমন ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্তও যৌক্তিক। তার সম্প্রসারণের বিকল্প না করেই যদি তার কাটা হয় তাহলে তারাই বা কী করবে?

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন

ক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ