ঢাকা, , মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

৭ বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ ঘাটতি ১৮৭৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৯ ০৮:৩৩:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৯ ০৮:৪০:০০

সাধারণ বীমা খাতের সাত কোম্পানির রিজার্ভের বিপরীতে বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা, যা বীমা আইন ১৯৩৮-এর ২৭ (ক) ধারার লঙ্ঘন। বীমা আইন ১৯৩৮-এর ধারা ২৭ক অনুযায়ী, প্রতিটি সাধারণ বীমা কোম্পানিকে দায়গুলোর অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা বা নিট প্রিমিয়াম আয়ের ১০ শতাংশ বেশি পরিমাণ সম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে।
জানা গেছে, বিনিয়োগ ঘাটতিতে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে— ইস্টল্যান্ড, গ্রীন ডেল্টা, পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স, সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি), সোনার বাংলা ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিগুলোকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিনিয়োগ ঘাটতির বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বরাবর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ঘাটতি পূরণের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) খলিল আহমদ বলেন, আমরা কোম্পানিগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। তা পাওয়ার পরই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। গ্রাহকস্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নেবে না।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির রির্জাভ ১০৭ কোটি ৭৪ লাখ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ৯১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ঘাটতি ৭৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এ কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে ৫৭২ কোটি ২৭ লাখ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৮৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ঘাটতি ১১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর রিজার্ভে রয়েছে ২৩৮ কোটি ৪১ লাখ ও বিনিয়োগ ২২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ঘাটতি ১৪৬ কোটি টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভে রয়েছে ৪১৭ কোটি ৩৯ লাখ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেদ মামুন বলেন, আমরা বিনিয়োগ ঘাটতিতে নেই। আইডিআরএর হিসাবে আমাদের স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ ও এফডিআর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বরাবর জানিয়েছি। এদিকে ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে সাধারণ বীমা করপোরেশনের। তাদের রিজার্ভ ১ হাজার ৪৪৪ কোটি ৩৭ লাখ ও বিনিয়োগের পরিমাণ ৯১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
সাধারণ বীমা করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক বিবেকানন্দ সাহা বলেন, বেসরকারি খাতের কোম্পানির সঙ্গে এসবিসিকে মেলানো ঠিক হবে না। কারণ বছর শেষে চূড়ান্ত অডিটের পরই সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। আইডিআরএ প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত তথ্য চেয়েছিল। আমরা দিয়েছি। তবে তা চূড়ান্ত কিছু নয়। আমরা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।
সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ঘাটতি ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর বিনিয়োগের পরিমাণ ২৯ কোটি ৬৬ লাখ ও রিজার্ভে রয়েছে ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ২৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিনিয়োগ ঘাটতিতে রয়েছে। কোম্পানিটির রিজার্ভ ৩৬৮ কোটি ও বিনিয়োগ ১০৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রসিডেন্ট শেখ কবীর হোসেন বলেন, বিনিয়োগের জায়গা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ খাতে তো আর বিনিয়োগ করা যায় না। কারণ এতে গ্রাহকরাই সমস্যায় পড়বেন। তাই ঝুঁকি না নিয়ে রিজার্ভেই টাকা রাখছে বীমা কোম্পানিগুলো। তবে নতুন বিনিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্ত হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে আশা করছি।

আর্কাইভ