ঢাকা, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত আনসারের মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-১০-০২ ০৯:২৩:২৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-০২ ০৯:২৩:২৯

লিপি খাতুনের বাবা আজিজার রহমান আনসার ভিডিপির সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সালে নাটোরে কর্মরত থাকাবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। সেই থেকে তাদের পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার।
এক ছেলে দুই মেয়েকে তাকে মা রহিমা বেগম দুশ্চিন্তায় পড়েন। সেই থেকে অনেক কষ্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ৫ শতক জমির উপর বসত-বাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নেই তাদের। এ অবস্থাতেও সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন তিনি। তিন সন্তানের মধ্যে লিপি খাতুন সবচেয়ে মেধাবী। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। অনেক কষ্টে পড়াশুনা করে সে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে ১৮৩৮তম স্থানে রয়েছে লিপি। সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামে মৃত আজিজার রহমান ও রহিমা বেগমের মেয়ে। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।
অদম্য মেধাবী লিপি খাতুন হাতীবান্ধা শাহ গরিবুল্য মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ ও হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।
লিপি খাতুন জানায়, শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়াশুনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। কিন্তু ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার খরচ আমার মা চালাতে পারবে না। আমার ইচ্ছে পড়াশুনা করে বিসিএস ক্যাডার হবো।
তার মা রহিমা বেগম (৩৫) বলেন, অনেক কষ্টে আমার সংসার চলে। মেয়ে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কিন্তু পড়াশুনা চালানোর টাকা আমার নেই। জানি না তার স্বপ্ন পূরণ হবে কীনা?
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন লাভলু বলেন, মেয়েটি মেধাবী। তার বাবা দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়া পর থেকে সংসার চলে অনেক কষ্টে। তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশুনার খরচ জোগাতে কেউ সহযোগিতা করলে সে পড়াশুনার সুযোগ পেত।

আর্কাইভ