ঢাকা, , রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে জাবিতে ‘শিট বই’য়ের দোকানের ছড়াছড়ি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি || প্রকাশ: ২০১৮-১০-০২ ১১:১১:০৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-০২ ১১:১১:০৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ‘শিট বই’য়ের দোকান বসিয়েছেন শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরা। আর এসব দোকানে চলছে চড়া মূল্যে বিভিন্ন ধরনের ‘শিট বই’য়ের বিক্রি। যদিও জাবি প্রশাসন বলছে, এসব দোকান স্থাপনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি কাউকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশে, বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে ও প্রধান ফটকে প্রায় দেড়শ অবৈধ শিট বইয়ের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এর মধ্যে কেবল প্রধান গেট থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত সড়কের দু’পাশেই রয়েছে প্রায় একশ দোকান। জাবি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগতদের অনেকেও এসব দোকান বসিয়েছেন।

 

দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ভর্তি গাইডের পাশাপাশি ভর্তি গাইড থেকে হুবহু কপি করা গুটিকয়েক প্রশ্ন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৫ থেকে ১০ পৃষ্ঠার ‘শিট বই’। এসব বইয়ের ওপরে লেখা থাকে ‘১০০% কমনের নিশ্চয়তা’, ‘শিওর চান্স’সহ বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনমূলক বাক্য। এসব তথাকথিত বই তৈরিতে ১০ থেকে ২০ টাকা খরচ হলেও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে সেগুলোই বিক্রি করা হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। চলতি পথের ভর্তিচ্ছুদের ডেকে এনে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন দোকানিরা। এমনকি বই কিনতে রাজি না হলে অনেক সময় ভর্তিচ্ছুদের সাথে দুর্ব্যবহারও করছেন দোকানিদের কেউ কেউ।

প্রধান ফটকের বাইরে এক দোকানি এই প্রতিবেদকের সামনেই এক ভর্তিচ্ছুর কাছে ৮ পৃষ্ঠার একটি শিট বইয়ের মূল্য হাকান ৭০ টাকা। ওই ভর্তিচ্ছু ৩০ টাকায় বইটি কিনতে চাইলেও ওই দোকানি তা বিক্রি করেননি।

 

জানতে চাইলে ওই দোকানি বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেননি। সামান্য কয়েক পৃষ্ঠার ফটোকপি করা ‘বই’য়ের দাম এত বেশি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরের দিকে হানিফ নামের এক শিট বই বিক্রেতাকে ছোট ছোট শিট বইয়ের চড়া মূল্য হাকাতে দেখা যায়। এগিয়ে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে ৮ পৃষ্ঠার একটি শিট বইয়ের মূল্য ৫০ থেকে ৬০ টাকা রাখছেন বলে দাবি করেন তিনি। এত বেশি মূল্যে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই বোঝেনই তো। এসব কিনতে খরচ আছে।’

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মুখ্য উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অসংখ্য দোকান বসানো হয়। সাধারণত ছাত্ররাই এ ধরনের কাজ করে থাকে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে এ ধরনের কোনো দোকান বসানোর অনুমতি দেইনি।’

প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী ব্যবসায়িক কাজে জড়িত থাকতে পারবেন না। তবে আমরা দেখেছি, ছাত্ররা ৫০টির মতো বইয়ের দোকান দিয়েছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

 

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১