ঢাকা, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৫ জনকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৯ ০৯:১২:০৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৯ ০৯:১২:০৯

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মো. ইমরান মিয়া, আদ্রিতা পান্না, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও ইয়াসির আরাফাত।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হয় শনিবার। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এক ছাত্রী অকৃতকার্য হয়েছেন। তার ফলাফল ৪ এর মধ্যে ১.৯৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২.২৫ পেলে পরবর্তী সেমিস্টারে উন্নীত হতে পারবে।
এ কারণে ওই ছাত্রীকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পক্ষ থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অমান্য করে তাকে ৩য় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার। পরীক্ষা চলাকালে ওই ছাত্রলীগ নেতা তার সহযোগীদের নিয়ে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে সিটে বসিয়ে দেন।
এতে বাধা দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. মহিউদ্দিন তাসনিন। এ বাধা দেয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার দায়িত্বরত শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ মারধরের চেষ্টা করেন। শেষমেশ নেতাকর্মীদের পাহারায় পরীক্ষা শেষ করেন ওই ছাত্রী।
পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেকে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন করেন ওই নেতারা। এ সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাও বন্ধ করে দেন ছাত্রলীগ নেতারা।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারে দাবিতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামের কাছে ৪৮ জন শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকে বহিষ্কার করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন, সঠিক বিচার না পাওয়ায় সোমবার দুপুরে শিক্ষকরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।

আর্কাইভ