ঢাকা, , সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

শ্রীলংকার মন্ত্রীর সঙ্গে তোফায়েলের বৈঠক, দ্রুতই ‘এফটিএ’ স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-১০-১১ ২১:০৪:৫২ || আপডেট: ২০১৮-১০-১১ ২১:০৬:০৫

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘এফটিএ’ দ্রুত স্বাক্ষর করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সফররত শ্রীলংকার ডেভেলপমেন্ট স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার মালিক সামারিক্রমরার সঙ্গে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসে আলাপ-আলোচনা শেষ করে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বাংলাদেশ শ্রীলংকার সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

তোফায়েল জানান, বাংলাদেশে জুয়েলারি শিল্প বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রীলংকায় নির্মাণ সামগ্রী, ঔষধ, কাগজ রপ্তানি করতে চায়। এগুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে শ্রীলংকায়। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা শ্রীলংকায় সিমেন্ট ও কাগজ উৎপাদনের ফ্যাক্টরি করতে আগ্রহী। উভয় দেশের মধ্যে ট্যুরিস্ট বিনিময় করা সম্ভব। শ্রীলংকা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীলংকার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীলংকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পরীক্ষা করে দেখবে। শ্রীলংকা বাংরাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। শ্রীলংকা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে মূল্য সংযোজনের পর তা ইউরোপিয়ন ইউনিয়নে রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ পণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগ বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে একটি সমন্বিত এফটিএ স্বাক্ষর করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রীলংকার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে, বাংলাদেশ এখন এটি আরও বিচার-বিশ্লেষণ করছে। গত অর্থবছর বাংলাদেশ শ্রীলংকায় ৩০.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৭.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। এফটিএ স্বাক্ষর হলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরইমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিবহন চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-কলম্বো-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে সপ্তাহে ৪টি ফ্লাইট সরাসরি পরিচালনা করা হবে। তাছাড়া রিজেন্ট এয়াওয়েজকেও শ্রীংলকায় ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, বিজিএমইএ-এর সঙ্গে শ্রীলংকার প্রতিনিধি দল গার্মেন্টস সেক্টরে ব্র্যান্ডিং এবং যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে। বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সেক্টরের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব।’

শ্রীলংকার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীলংকা বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশ থেকে ঔষধ, নির্মাণ সামগ্রী, তৈরী পোশাক আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সাথে শ্রীলংকার বাণিজ্য বাড়বে। উভয় দেশের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষর হলে বাণিজ্য আরো সহজ হবে। শ্রীলংকার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের বিষয় যাচাই করে দেখবে।’

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু, শ্রীংলকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীংলকার হাইকমিশনার ক্রিসান্তে ডি সিলভা, শ্রীলংকার প্রতিনিধি দলে শ্রীলংকার বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্টের পরিচালক মানগলা ইয়াপা, ডেভেলপমেন্ট স্ট্রাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার এর কনসালটেন্ট রাইয়ান রকউড এবং ৬ জন নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।