ঢাকা, , বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

নবজাতকের জন্য যে দোয়া করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-১১-২২ ১৮:৩১:১৫ || আপডেট: ২০১৮-১১-২২ ১৮:৩১:১৫

সন্তান মহান আল্লাহর সেরা দান। এ সেরা দানের শুকরিয়া আদায় করা বাবা-মার একান্ত কর্তব্য। যেভাবে শুকরিয়া আদায় করেছিলেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম।
যে সব বাবা-মা’র নবজাতক সন্তান হবে কিংবা সন্তান হয়েছে, তাদের উচিত হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শেখানো ভাষায় সন্তান প্রাপ্তিতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। অতঃপর সন্তানের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করা। নিজেদের মা-বাবা ও মুমিন মুসলমানের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তার সন্তান ভূমিষ্ঠের পর এভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও সন্তান, পিতামাতা, মুমিনদের জন্য দোয়া করেছিলেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ – رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ – رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ : আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি ওয়াহাবা লি আলাল কিবারি ইসমাঈলা ওয়া ইসহাক্বা। ইন্না রাব্বি লাসামিউদ দুআয়ি। রাব্বিঝআলনি মুক্বিমাস সালাতি ওয়া মিন জুর্রিয়্যাতি রাব্বানা ওয়া তাক্বাব্বাল দুআ। রাব্বানাগ ফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমু’মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’
অর্থ : ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দোয়া শ্রবণকারী। হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করুন। হে আল্লাহ! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৯-৪১)
কুরআনুল কারিমের উল্লেখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সন্তান (ছেলে বা মেয়ে) ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং সন্তানের জন্য দোয়া করা, নিজ পিতা-মাতা ও মুমিনদের জন্য দোয়া করা ইসলামের সুমহান আদর্শ ও সাওয়াবের কাজ।
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সন্তান প্রাপ্তির আনন্দে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি সন্তান, পিতামাতা ও মুমিনদের জন্য দোয়া করতে ভুলেননি। এ বিষয়টি আল্লাহর কাছে এতটাই পছন্দনীয় ছিল যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সে শুকরিয়া ও দোয়া কুরআনে উম্মতে মুসলিমর জন্য তুলে ধরেছেন।
নবজাতকের জন্মে আনন্দ করা যাবে কি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি হজরত হাসান ইবনে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু যে কারো সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সংবাদ পেলে এ দোয়া পড়তেন-
بَارَكَ اللهُ لَكَ فِى المَوَاهُوْبِ لَكَ وَ شَكَرْتَ الْوَاهَبِ – وَبَلَغَ أَشُدَّهُ – وَ رُزِقْتَ بِرُّهُ وَ مُبَارَكاً عَلَىْكَ وَ عَلَى أُمَّةِ مَحَمًّدٍ صَلَّى اللهُ عَلْيْهِ وَ سَلَّم
উচ্চারণ : বারাকাল্লাহু লাকা ফিল মাওহুবে লাকা ওয়া শাকারতাল ওয়াহেবে ওয়া বালাগা আশুদ্দাহু ওয়া রুঝিক্বতা বির্রুহু ওয়া মুবারাকান আলাইকা উম্মাতে মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’
অর্থ : আল্লাহ তোমার জন্য এ সন্তানে বরকত দান করুন। তুমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর। এ সন্তান দীর্ঘজীবী হোক। কল্যাণময় রিঝিক দান করুন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মত হিসেবে থাকার দ্বীনের ওপর থাকার বরকত দান করুন।’
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘সন্তান জন্মের সংবাদ পেলে সন্তানের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবজাতক সন্তান লাভে তার শুকরিয়া আদায়সহ সন্তান, পিতামাতা ও মুমিন মুসলমানের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। প্রত্যেক নবজাতককে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একান্ত অনুসারি হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।