ঢাকা, , মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রবাসীরাও আসবে ষষ্ঠ আদমশুমারিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৫ ১৭:৪৭:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-০৫ ১৮:০৪:১৯

প্রবাসীরাও আদমশুমারির আওতায় আসছে। আগামী ষষ্ঠ আদমশুমারিতে তাদেরেকে গণনায় আনা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ২০২১ সালে ষষ্ঠবারের মতো আদমশুমারি করবে বিবিএস। এরই মধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। এবারই প্রথম শুমারির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে প্রবাসীদের। এই শুমারিতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ‘পপুলেশন এন্ড হাউজিং সেনসাস ২০২১: প্রসপেক্ট এন্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানীর আগারগাঁও এ অবস্থিত পরিসংখ্যান ভবনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রথমবার ১৯৭৪ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ এবং সর্বশেষ ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে মোট ২৫টি প্রশ্নপত্র ছিল। কিন্তু নতুন আদমশুমারিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রশ্নপত্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এসডিজির ১০টি গোলের ২৫টি ইন্ডিকেটরের তথ্য উঠে আসবে এ শুমারির মধ্য দিয়ে। আদমশুমারি থেকে যে তথ্য পাওয়া যাবে সেখান থেকে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগানো যাবে।

শুমারিটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ হলো মাল্টি মোডাল জরিপ পরিচালনা করা। অর্থাৎ সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ট্যাব, কল সেন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যারা আদমশুমারিতে তথ্য দেবেন তারা পরবর্তীতে এসএমএস এর মাধ্যমে জানতে পাবেন তাদের গণনা করা হয়েছে কিনা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো: নজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং ইউএনএফপিএ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. আশা তরকেলশন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদমশুমারি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো: জাহিদুল হক সরদার। বক্তব্য রাখেন বিবিএস এর উপ-মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজিবুর রহমান বলেন, জীবনযাত্রার গুনগত মান ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য জনশুমারি হচ্ছে একটি মাদার জরিপ। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও এসডিজির সুষ্ঠ বাস্তবায়নে এই শুমারি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করায় বিবিএসকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, প্রতি দশ বছর পর পর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আদমশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম করে আসছে। পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী যা এখন জনশুমারি নামে পরিচিত হবে। ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ ২০১১ সালে পঞ্চম জনশুমারি (আদমশুমারি) অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২১ সালে পরবর্তী জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, জনশুমারি থেকে দেশের সকল এলাকার সঠিক জনসংখ্যার তথ্য পাওয়া যায় যা দেশের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সম্পদের সুষম বন্টনের জন্য অপরিহার্য। তিনি জনশুমারিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন, অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওমমআর) এর ব্যবহার এবং সর্বশেষ ইনটেলিজেন্টস ক্যারেকটার রিকগনাইজেশন (আইসিআর) পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

তিনি আরও বলেন, ৫০ সদস্য বিশিষ্ট ন্যাশনাল ডাটা কো অরডিনেটর কমিটি (এনডিসিসি) গঠন করা হয়েছে যার মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই সহ তথ্য প্রদানকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সাথে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষ্ণা গায়েন বলেন, প্রতিটি জনশুমারি ও গৃহগণনায় কিছু কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে বর্তমানে ডিজিটাল ক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়ায় আগের শুমারিতে ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া পদ্ধতির সাথে এলাকা ভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতি সংযোজন করা যেতে পারে।