ঢাকা, , মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯

বীমা খাতের ইমেজ বাড়াতে ২০১৯ সাল হবে মাইল ফলক

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৩ ২০:৫৬:২২ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৪ ১২:৪৩:৩২

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেছেন, বীমা খাতের দুর্ণাম দূর করতে এবং ইমেজ বাড়াতে ২০১৯ সালটি হবে একটি মাইল ফলকের বছর। মানুষকে জানাতে হবে বীমা করলে ক্ষতি নেই, অনেক লাভ আছে। তাই এই বছর খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। একই সঙ্গে তিনি বলে, বীমা খাত থেকে জাতীয় আয়ে তেমন প্রভাব নেই,সেই দুর্ণামও বদলাতে কাজ করতে হবে আমাদেরকে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে পপুলার লাইফের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বীমা খাতের দূরনাম অনেক আগ থেকেই। অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বীমা কোম্পানি দাবী পরিশোধ করে না। কোম্পানিগুলো টাউট। এই শব্দ আর আগের  মতো শুনা যায়না। এটি সম্ভব হয়েছে কোম্পানিগুলোর দাবী পরিশোধের মাধ্যমে।

বীমা খাতের ইমেজ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আগের তুলনায় বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। তবে এই আস্থা ধরে রাখতে এবং বীমা খাতের প্রসার করতে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। কারো একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়।

মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী আরও বলেন, বীমা খাত থেকে দেশের জাতীয় আয়ে তেমন অবদান নেই। জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান বাড়াতে হবে। এটি করতে পারলে বীমা করে দেশের মানুষ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি লাভোবান হবে দেশের অর্থনীতি। সব মিলিয়ে ২০১৯ সাল হবে বীমা খাতের জন্য একটি মাইল ফলকের বছর। এই খাতের প্রসারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত সরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএ’র সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, গ্রাহকরা এক সময় অভিযোগ করতো কোম্পানিগুলো দাবি পরিশোধ করতে চায় না। তবে এখন আর আগের মতো শুনা যায় না। এটি সম্ভব হয়েছে কোম্পানিগুলোর উদ্যোগের জন্য।

তিনি বলেন, চুক্তির বরখেলাপ মানি প্রতারণা করা। গ্রাহকদের সঙ্গে এটি করা যাবে না।এটি করলে বীমা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চেক হস্তান্তর করলে বীমা খাতের ইমেজ বাড়ে। এই খাতের প্রতি ইতিবাচক হবে মানুষ। এই খাতকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ্যের কাজ বাস্তবায়নে স্ট্রাইকিং ফোর্স  হিসেবে কাজ করবে পপুলারের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে গ্রাহকদের ঠকানোর কোনো কাজ আমরা করবো না, এমন শপথ নিতে হবে। এর মাধ্যমে বীমা খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো আমরা।

অনুষ্ঠানে কোম্পানি কোম্পানিটি ৬ হাজার ২১ গ্রাহকের বীমা দাবি চেক তুলে দেন। টাকার হিসেবে এটি হলো ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৭ টাকা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও কোম্পানির সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবদুল আউয়াল হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম সচিব ও কোম্পানির সিনিয়র কনসালট্যান্ট মোঃ আনিস উদ্দিন মিঞা, সাবেক প্রধান বীমা নিয়ন্ত্রক (ইনচার্জ) ও কোম্পানির সিনিয়র কনসালট্যান্ট রায় দেবদাস, ডিএমডি সৈয়দ মোতাহার হোসেন, মোঃ নওশের আলী নাঈম, মোঃ আবু তাহের, মোঃ হাবিবুর রহমান ও ইমাদ উদ্দিন আহমেদ প্রিন্স প্রমূখ।

সানবিডি/গিয়াস