ঢাকা, , সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯

বিশ্বের ভয়ঙ্কর যত সেতু!

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৯ ১৭:৩১:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৯ ১৭:৩১:০৭

‘ভয়ঙ্কর এবং সুন্দর’উভয় ক্ষে্ত্রই মানুষকে প্রচন্ড ভাবে টানে।আর যদি মানুষের অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যমই হয় এসব ভয়ঙ্কর এবং সুন্দর ক্ষে্ত্র, তাহলে অ্যাডভেঞ্চারের তুখোড় স্বাদের বাইরেও থাকবে প্রয়োজনটা।দূরকে কাছে টেনে আনে এমন বিশ্বের কিছু কিছু দেশে রয়েছে ভয়ঙ্কর সুন্দর কিছু সেতু। যা দেখতে হলে চরম সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে আপনাকে।এমনই সুন্দর কিন্তু বেশ কঠিন এবং ঝুকিপূর্ণ সব সেতুর কথা ধারাবাহিক ভাবে থাকছে সানবিডি২৪-এর পাঠকদের উদ্যেশে!

১. সিদু নদী সেতু, চীন

পৃথিবীর সবচেয়ে উচুঁ এবং শক্তিশালী ব্রীজের অন্যতম একটি সিদু ব্রিজ।এ ব্রিজের পাটাতনের উচ্চতা তলদেশ থেকে  প্রায় ৪৯৬ মিটার। এই ঝুলন্ত সেতুটি চায়নার সিদু নামক নদীর উপত্যকা অতিক্রম করে গেছে। চায়নার হুবেই প্রদেশের বাডং বিভাগের ইয়েসাংগুন নামক শহরের একটি নদীর নাম সিদু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,২২২ মিটার। প্রস্থ ২৪.৫ মিটার এবং দুই স্তম্ভের মধ্যে সর্বোচ্চ দূরত্ব ৯০০ মিটার। উদ্বোধন করা হয়েছে ২০০৯ সালের ১৫ই নভেম্বর।এতে  খরচ পড়েছিল ১০ কোটি মার্কিন ডলার। ইস্পাত নির্মিত এই ভয়ঙ্কর সেতুটি চংকিং সঙ্গে সাংহাই শহরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করেছে।

. ক্যার্রিকরেডে রপ ব্রিজ, উত্তর আয়ারল্যান্ড

ক্যার্রিক-এ-রেডে রপ ব্রিজ (স্থানীয়ভাবে বলা হয় কেরিক-এ-রেডি) উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি এন্টরিমের বেলিনটোয়ের কাছে বিখ্যাত দড়ি দিয়ে তৈরি ব্রিজ। এই সেতুটি মূল ভূখন্ডটি কারিক্রেডের ছোট্ট দ্বীপটিকে সংযুক্ত করে ।এটি ২0 মিটার (৬৬ ফুট) এবং নীচের শিলার উপরে ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) বিস্তৃত।।সেখানের ভূ-সৈর্গিক দৃশ্য শিলা, সমুদ্র সৈকত এবং পানির উপরে অবস্থিত ক্যার্রিক-এ-রেডে রপ ব্রিজ দেখাকে প্রচন্ড পর্যটক আকর্ষণ করে । বর্তমানে এটি জাতীয় ট্রাস্টের মালিকানাধীন এবং পরিচালিত।

. স্টোরেসিডুকেট ব্রিজ, নরওয়ে

স্টোরেসিসুন্দেট ব্রিজ মূল ভূখণ্ড রমসদাল উপদ্বীপ থেকে রাস্তার সংযোগ করেছে । এই খাড়া রোলেরকোস্টারের মতো সেতুটি কাউন্টির এভারোয়ায় দ্বীপে অবস্থিত। সেতুটি একটি ক্যান্টিলিভার সেতু যা ২৬ মিটার (৮৫০ ফুট) দীর্ঘ এবং সমুদ্রের সর্বোচ্চ পরিবহনের সাথে ২৩ মিটার (৭৫ ফুট)। ছয় বছর ধরে শ্রমিকেরা এই অঞ্চলের বন্যা ও প্রতিকুল আবহাওয়ার সাথে লড়াই চালিয়েছিল এবং হারিকেনগুলি দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।পরে ৭ জুলাই ১৯৮৯ সালে সর্বসাধারনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেতুটি সম্পন্ন করার জন্য এক কোটি ২২ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোন ব্যয় করা হয়েছিল।

৪. ইউ বেইন সেতু, মায়ানমার

মিয়ানমারের অমরপুরের কাছাকাছি তুংথমান লেকটিতে রাজকীয় প্রাসাদ থেকে পুনরুদ্ধারকৃত কাঠ থেকে ইউ বেইন সেতুটি নির্মিত হয়েছিল।এটি বিশ্বের প্রাচীনতম এবং দীর্ঘতম টেকউড সেতু হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।১.২ কিলোমিটারের এই সেতুটি ১৮৫০ সালের মধ্যে নির্মান করা হয়েছিল।এটি বিপজ্জনকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও স্থানীয় মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ হিসাবে ব্যবহার করা হয় এবং  ক্রমেই ভয়ঙ্কর এই সেতুটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

. মন্টিনিগ্রো রেনফরেস্ট, কোস্টা রিকা

‘ঝুলন্ত সেতু’ নামে পরিচিত মন্টিনিগ্রোর রেইন ফরেস্টের এই ভয়ংকর সুন্দর সেতুটি । কাঠ এবং স্ট্রিং দিয়ে তৈরি করা  হয়েছিল সেতুটি। বিপজ্জনক রেইন ফরেস্টের মাঝে অন্ধকারাছন্ন পরিবেশ এবং দুর্বল কাঠামোর সেতুটিতে ভ্রমন আপনাকে অ্যাডভেঞ্চারের তুখোড়ে নিয়ে যাবে।তবে ভয়ংকর এই সেতুতে চড়তে গেলে সাবধান!

সানবিডি/ হেলাল নিরব

লেখাটি ধারাবাহিক ভাবে চলবে…