ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯

মসলার মান উন্নয়নে ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১০ ১৮:২৮:১১ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১০ ১৮:২৮:১১

বাংলাদেশে বিভিন্ন মসলার মান ও জাত উন্নয়নের জন্য সরকার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ইতোমধ্যেই  গৃহীত ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বগুড়ার শিবগঞ্জের অবস্থিত মসলা গবেষণা কেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় এই প্রকল্পের অধিনে গবেষণার কাজ করা হবে।

মসলা গবেষণা জোরদার করতে বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্র কৃষিবিদদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিবিদদের নিয়ে কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এর মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন। বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩২.৮৪ লাখ টন মসলার চাহিদা। এর বিপরীতে মাত্র ৪.১৬ লাখ হেক্টর জমিতে প্রতিবছর মসলা উৎপাদন হচ্ছে ২৬.৭৪ লাখ টন। ফলে প্রতিবছর বাংলাদেশে মসলার ঘাটতি থেকে যায় ৬.১ লাখ টন। অপরদিকে সংরক্ষণ জনিত কারণে এই মসলা ২০ ভাগ নষ্ট হয়। এতে মোট ঘাটতির দাঁড়ায় ১২ লাখ টন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে ২৬৫০ কোটি টাকার পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলা আমদানি করা হয়েছে। ২০১৬ সালে গিয়ে ৩৩৫০ কোটি টাকার মসলা আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ৬০ ভাগ পেঁয়াজ ৪০ ভাগ অন্যান্য মসলা। বর্তমান সময় পর্যন্ত আমদানি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিবছর ঘাটতি মসলা পূরণে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার সমলা কিনতে হচ্ছে বিদেশ থেকে। অন্য একটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, জনসংখ্য বিবেচনায় ২০২০-২১ সালে বাংলাদেশে মসলার চাহিদা ৩২.৮৪ টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে চাহিদা দাঁড়াবে ৩৬ লাখ টন। এসব মসলার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মরিচ।

বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের প্রায় ৩৫ জাতের মসলার চাষ হয়। বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রে এ যাবত ৪২ জাতের মসলা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এপর্যন্ত এই গবেষণা কেন্দ্র ২০টি মসলার ৩৮টি উন্নজাত এবং ৮৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্ত্য রাখেন পুণ্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একেএম আজাদ উদ-‌দৌলা প্রধান, কৃষিবিদ ড. আব্দুর রহিম, প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার । এসময় বগুড়া -১ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, মসলা গবেষণা কেন্দ্রের শুরু দিকে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন নেই। কৃষিবান্ধব সরকার মসলা গবেষণায় ৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্যেশ্যে বলেন, এই টাকায় আপনারা যথাযথ ভাবে গবেষণা করবেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, মসলা গবেষণা সরকার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তাতে দেশের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনিও মনে করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে মসলার ঘাটতি পূরণ হবে।