ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯

১২৬ কোটি টাকায় লেবুজাতীয় ফলের সম্প্রসারণ প্রকল্প

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১২ ১৯:৩৩:৩২ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১২ ১৯:৩৪:৪৫

বর্তমানে দেশে  মাল্টা, বাতাবি লেবু, কমলা, এলাচি লেবু, জারা লেবু, কলম্বো লেবু, সাতকরা, আদাজামিরসহ নানা ধরনের লেবুজাতীয় ফল রয়েছে। এসব লেবুজাতীয় ফসল সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বাড়াতে প্রায় ১২৬ কোট টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের সাত বিভাগের ৩০ জেলার ১২৩টি উপজেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি’ নামের প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর  পুরোটাই হবে সরকারি অর্থায়নে। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশ যত প্রজাতির  লেবুজাতীয়  ফল আছে, বিদেশে এগুলোর প্রচুর বাজার রয়েছে  আমাদের এথনিক কমিউনিটির মধ্যে। বিদেশে তাদের সঙ্গে সঙ্গে অন্য লোকেরাও নেয় এসব ফল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) গবেষণা করছে, তারা এসবের উন্নত প্রজাতি তৈরি করছে। আমরা এগুলোর প্রসার করব, উন্নয়ন করব।’

তিনি বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রূী এই প্রকল্প নিয়ে খুবই আবেগ। উনি বলছেন- এ ধরণের দেশীয় ফলটল যা আছে সব খুঁজে বের করেন। এগুলো নিয়ে প্রয়োজনে আরও গবেষণা করেন এবং সামনে নিয়ে আসেন।’

গৃহীত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- প্রকল্প এলাকায় নিবিড়ভাবে  লেবুজাতীয় ফল চাষ  ও ফলন বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। প্রকল্প এলাকায় মাল্টা ও অন্যান্য লেবুজাতীয় ফল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের আওতার বাইরের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা। প্রকল্প এলাকায় ২০টি সরকারি নার্সারি/হর্টিকালচার সেন্টারে লেবুজাতীয় ফলের মাতৃবাগান স্থাপন ও চারা উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানো। সমাপ্ত ‘সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট ও কমলা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পাঁচ হাজার পুরাতন বাগানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন আয়তনের ৫৯ হাজার একশটি প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে, ১২৩টি ড্রিপ ইরিগেশন প্রদর্শনী স্থাপন করা, ১৯৭০ ব্যাচ কৃষক, ২০ ব্যাচ কর্মকর্তা, ১০০ ব্যাচ এসএএও প্রশিক্ষণ দেয়া; তিনটি জাতীয়, ৩৫টি আঞ্চলিক কর্মশালা আয়োজন এবং ২৪৬টি উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ ও ৬১৫টি মাঠ দিবসের আয়োজন করা হবে।