নাঙ্গল-জোয়ালের দেশ এখন আইসিটিতে বিশ্বের রোল মডেল

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৩ ১৯:১০:১৩ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০৩ ১৯:১০:১৩

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি করেছে। বড় হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তথ্য- প্রযুক্তি খাত। তাইতো নাঙ্গল জোয়ালের দেশটি আজ তথ্য-প্রযুক্তিখাত বিশ্ব দরবারে রোল মডেল।

আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে হুয়াওয়ে কর্তৃক আয়োজিত ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তিদাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, সরকার তথ্য-প্রযুক্তিখাত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডিজিটাল শব্দটি ব্যাবহার করেছে বাংলাদেশ। এর একবছ পর বৃটেন এবং দুই বছর পর ভারত। এখন বিশ্বের অন্যদেশগুলোও এ শব্দ ব্যবহার করছে। আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাই এই বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মনযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় মনে করতাম ভালো পণ্য মানে জাপান । কিন্তু চীনও ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারে তা হুয়াওয়ে প্রমাণ করে দিল । কারণ আমি বেশ কিছু দিন যাবৎ হুয়াওয়ের পণ্যের মান যাচাই করছি এবং তাদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করছি ।

তিনি হুয়াওয়ে কে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, ২০০৮ সাল থেকে হুয়াওয়ে সিডস ফর দ্যা ফিউচার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রধান কার্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তরুণদের মাঝে জ্ঞানের ক্ষুধা তৈরির কাজটি করে আসছে, যাতে তরুণরা ভবিষ্যতে আরও নতুন সব উদ্ভাবনে উদ্বুদ্ধ হয় এবং সারা বিশ্বকে একটি ‘বেটার কানেক্টেড ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে ।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে শুরু হওয়া সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রতিযোগিতায় আজ পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশে আয়োজিত হয়েছে । বিশ্ব ব্যাপিব্যাপী ৩৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০,০০০ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্য থেকে ৩,৬০০ জন শিক্ষার্থী হুয়াওয়ের হেডকোয়ার্টারে শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।

বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রতিযোগিতা শুরু হয় । চলতি বছর বাংলাদেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চমবারের মতো এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় । প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২০ জন করে মোট ৬০০ শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতার বাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন । তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ জন করে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশ নেন । লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে চুড়ান্তভাবে দুইজন শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হয় । প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সিনিয়র শিক্ষক এবং হুয়াওয়ের বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় এসব শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হয়েছে । বাচাইকৃত এই শিক্ষার্থীদের বিবিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক পরিচিতির জন্য দুই সপ্তাহের জন্য হুয়াওয়ের হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হবে ।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন হুয়াওয়ের সিইও ঝাং জেরগিউন এবং চীনা দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও কমার্শিয়াল উপদেষ্টা লি গোয়ানজুন । হুয়াওয়ের বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর জান্নাতুল ফেরদৌস ওসি । অনুষ্ঠানে আইসিটিতে দক্ষতা তুলে ধরেন ডিইউ, বুয়েট, ডুয়েট,চুয়েট, কুয়েট এর শিক্ষার্থীরা । এসময় তারা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষন, নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহার, ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন ।

সান বিডি/এমএফইউ