ঢাকা,শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

‘মিনিস্ট্রিয়াল রাউন্ডটেবিল’ পরিচালনা করলেন মোস্তাফা জব্বার

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১২ ১১:৪০:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৪-১২ ১১:৪০:১০

জাতিসংঘের ডব্লিউএসআইএস ফোরামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘মিনিস্ট্রিয়াল রাউন্ডটেবিল’ মডারেট করে প্রশংসিত হয়েছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের বহুমাত্রিক অংশিদারদের এই প্ল্যাটফর্মের এবারের ফোরামে চেয়ারম্যানও তিনি।

জেনেভার স্থানীয় সময় বুধবার বেলা ২ টা হতে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেনেভা কনভেনশন সেন্টারে ওই রাউন্ডটেবিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০টি দেশের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাউন্ডটেবিলের চেয়ারম্যান হিসেবে খুব দক্ষতার সঙ্গে সেশনটি মডারেট করেন মোস্তাফা জব্বার। সেশনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের কথা শোনেন তিনি এবং সবার বক্তব্যের সামারি করে বক্তব্য দেন।পুরো সেশন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড্রেসিংয়ে মোস্তাফা জব্বারের প্রশংসা করেন আইটিইউ মহাসচিব হাউলিন ঝাউসহ মন্ত্রীরা। ঝাউ এই সেশনে কো-চেয়ার ছিলেন।

প্রতিটি দেশের মন্ত্রীরা গোলটেবিলে নিজেদের দেশের ভাবনার কথা বলেছেন, তাঁদের বর্তমান অবস্থান, পলিসি, স্ট্র্যাটেজ, এসডিজির সঙ্গে কানেক্টিভিটি এবং ডব্লিউএসআইসের অবজেক্টিভগুলোর সম্পক্ততা নিয়ে কথা বলেছেন।

আলোচনায় মন্ত্রীরা তাদের সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগ তৈরি করার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।সাইবার সিকিউরিটির বিষয়ে বলেছেন অনেকে। কেউ কেউ ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন। এসেছে ই-গভর্মেন্ট, স্মার্ট গভর্মেন্টের বিষয়গুলো।ভুটান বলেছে তারা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে কাজ করছে।

বাংলাদেশ হতে তারা অনেক সহায়তা নিচ্ছে।এমন বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন রাশান ফেডারেশন, ইরাক, জাম্বিয়া, বুলগেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে।মূলত আলোচনায় গুরুত্ব পায় সবার কাছে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছানো, ডিজিটাল ডিভাইড দূর করা, সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়গুলো।

এছাড়া ফাইভজি, আওটি, এআই, বক্লচেইনের মতো প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশগুলো তাদের ভাবনায় সম্ভাবনা ও উদ্বেগগুলো তুলে ধরতে চেয়েছেন।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনা করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।তিনি বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি প্রস্তাব রাখেন।

প্রথমত, আইটিইউয়ের উদ্যোগে একটি ‘সেন্টার ফর সাইবার সিকিউরিটি’ স্থাপন করা , দ্বিতীয়ত সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ স্থাপন এবং তৃতীয়ত এসডিজি ট্র্যাকার সিস্টেম বাস্তাবায়ন, যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন উদ্বোধন করেছিলেন পেরুসহ আরও দশ দেশ এটুআইয়ের কাছ থেকে এই সহযোগিতা ইতোমধ্যেই নিতে শুরু করেছে। এটিকে আইটিইউয়ের সকল সদস্য রাষ্ট্রের জন্য কাস্টমাইজ করে দেয়া। পলকের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বৈঠকে আইটিইউ মহাসচিব বলেন, এটি রিভিউ হবে এবং এর লিডারশিপের জায়গায় বাংলাদেশকে দেয়া যায় কিনা সেটি বিবেচনা করা হবে।

মোস্তাফা জব্বাব মূল বক্তব্যে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সমস্যা-সম্ভাবনা- চ্যালেঞ্জ সবকিছু নিয়ে সব দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার কার্যকর প্লাটফর্ম হতে পারে ডব্লিউএসআইএস।

মন্ত্রী বলেন, এখানে সবার কেইস স্টাডিগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এতে এক দেশ আরেক দেশের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগাতে পারবে। কোনো দেশ কোনো খাতে শক্তিশালী আবার কোনো দেশ সেই খাতে দূর্বল। পারস্পরিক সহযোগিতায় সবাই মিলে একসঙ্গে নিজেদের সমস্যাগুলো দূর করা যাবে।

এছাড়া গ্লোবাল ভাবনাকে সামনে রেখে স্থানীয় অ্যাকশনগুলো তৈরি হলে ডব্লিউএসআইএসের ২০৩০ সালের অবজেক্টিভ বাস্তবায়ন সহজ হবে।