ঢাকা,শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

কর পরিশোধে আসতে পারে নতুন পদ্ধতি: এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৫ ১৯:৫৮:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৪-১৫ ২০:৪১:০৯

কর পরিশোধ আসতে পারে নতুন পদ্ধতি । এমনি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া

আজ সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় এনবিআর সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অথর্ বছরের প্রাক –বাজেট আলোচনা সভায় এমন তথ্য দেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া । তিনি বলেন যেহেতু এবারের বাজেট পাঁচ হাজার কোটি টাকার উপরে সুতরাং কোন ভাবেই করদাতারা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নাই । কারন পরিপুর্ণ রাজস্ব আদায় না হলে বাজেট সফলতার মুখ দেখবেনা । তাই করদাতারা যেন কোন রকম ফাঁকি দিতে না পারে, তাই করদাতাদের কর পরিশোধ করার জন্য নাম্বার সম্বলিত একটি কার্ড দেয়া হবে, উক্ত কার্ডে লাইসেন্স নাম্বার সহ থাকবে, যা কর পরিশোধ সহ ভিবিন্ন কাজে ব্যববহার করা যাবে ।

এসময় ২০১৯-২০ অথর্ বছরের প্রাক –বাজেট আলোচনা সভায় বিভিন্ন কর সুবিধা সম্পৃক্ততা নিয়ে অংশ নেন বিডা, বেপজা, হাইটেকপার্ক, বিল্ড, বেজা ও এফবিসিসিআই এর নেতৃবৃন্দ । এসময় এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সিনিয়ির কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

অনুষ্ঠানে বেপজা’র সদস্য মিজানুর রহমান কর সংক্রান্ত ৩টি প্রস্তাবনা রাখেন ।

১. ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ পর্যন্ত স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য ১০ বছরের কর রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে স্থাপিত ও স্থাপিতব্য শিল্প প্রতিষ্ঠানসমুহের ক্ষেত্রে কর রেয়াত সুবিধা ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ইপিজেডসমূহের জন্য ০৫ বছর এবং অন্যান্য বিভাগের ইপিজেডসমুহের জন্য ০৭ বছর করে কর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় । পক্ষান্তরে, বেজার অধীন স্থাপিতব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ বছরের কর রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে ।

২. ২২ মার্চ ২০১৯ এর পূর্বে অনুমোদনকৃত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্তভাবে ২/৩টি গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে স্থাপিত ও স্থাপিতব্য শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য তা রহিত করা হয় । সকল বিনিয়োগকারীদেরকে সমান সুযোগ দেয়ার নিমিত্তে এ সুবিধা পুনর্বহাল করা যেতে পারে ।

৩. সরকারি কোষাগারে বেপজার অবধান ঃ সরকারি কোষাগারে বেপজার অবদানকে ( প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি টাকা) রাজস্ব খাতের ব্যয় হিসেবে না দেখিয়ে লভ্যাংশ হিসেবে হণ্য পূর্বক উক্ত খাতে ব্যয়কৃত অর্থের উপর ২৫% অতিরিক্ত আয়কর ধার্য করা হচ্ছে । যেহেতু বাজেটে এটি রাজস্ব খাতের ব্যয়, তাই এ খাতে ব্যয়কৃত অর্থের উপর আয়কর রহিত হওয়া যুক্তিযুক্ত ।

বিডার চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, এদেশের অর্থনীতি কোনদিকে যাবে তার নির্ভর করবে এনবিআর এর উপর । তিনি বলেন, আমাদের লেভার মার্কেট খুব ভালো । বাজারে এখন অনেক চাকরি । বহু প্রতিষ্ঠানের সিইউ ৮-১০ লাখ টাকা বেতনা পায় । তাই কর আদায়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয় ।

বেজা’র চেয়ারম্যাান প্রবন চৌধুরী বলেন, দিন দিন বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত কর্মচারির সংখ্যা বাড়ছে । তাইতো জাপান, চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে । মিরশ্বরাই যে ইপিজেড নির্মিত হচ্ছে তাতেও জাপান এবং চীনের বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ।

সভায় বিল্ডের সিইউ ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, প্রাইভেট সেক্টরের বক্তব্যের উপর দৃষ্টি দিয়ে আগত ভ্যাট এবং এসডি আইন ২০১২ এ প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখতে । তিনি আরও বলেন, আড়াই লক্ষ টাকা হতে অন্তত ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যহতি প্রদান । এছাড়া ট্যাক্স হলিডে নীতি সহজি করন করলে আয়কর বাড়বে ।