ঢাকা,শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

জগতে মানবিক শিক্ষার খুব দরকার : আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৫ ১৩:৫৬:২৪ || আপডেট: ২০১৯-০৪-১৫ ১৩:৫৬:২৪

জগতে মানবিক শিক্ষার খুব দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ‘নবযাত্রায় উল্লাসে আজ আলোর দুয়ার খোলো’ এই স্লোগানে  বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন বুয়েট গ্র্যাজুয়েটস ক্লাব লি. আয়োজিত বষর্বরণ ১৪২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাজধানীর বসুন্ধরার কনভেনশন সিটির ৩ নং হলে এ আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আর্কিটেক্ট হলেও মানবিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে। যদিও আর্কিটেক্টরা মানবিক। মানবিক শিক্ষা চায় সব জায়গাতে। সব জায়গায় মানবিক শিক্ষা দরকার ।

এসময় তিনি বলেন, মানুষের হৃদয়ের চর্চা করা দরকার। মানুষ যত টাকার মালিকই হোক না কেন হৃদয়ের চর্চা না করলে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়া যায় না, মানুষের জীবনে চরম মুহূর্তও আসে। কিছু কিছু মানুষ আছে লোহার চেয়েও শক্ত, পিটালেও কিছু করা যায় না। আপনারা (প্রকৌশলীরা) হচ্ছেন সেই লোক।

তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের ঘরের বউ সুন্দরী হয় ,দেশের বেশির ভাগ সুন্দরী মেয়েই (বউ) ইঞ্জিনিয়ারদের ঘরে। তবে ঘরের বউ সুন্দরী হলেই যে সুখী হবে তা সত্য নাও হতে পারে। কারণ বউ খুব নিষ্ঠুর, অহংকারী, আত্মসর্বস্ব হতে পারেন; অর্থ অভিসপ্তও হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ঘরের বউ অসৎ হলে তার প্রভাব অফিসেও পড়তে পারে। আমার বেশ কিছু অফিসার বন্ধু আছে যারা অধিকাংশই বিপদগ্রস্ত হয়েছে তাদের বাড়ির প্রভাব থেকেই। আবার অনেকেই সৎ থেকেছেন সেই বাড়ির প্রভাবেই। তাই হৃদয় ও জীবনকে পরিমার্জিত পরিশীলিত করতে হবে।

এই শিক্ষাবিদ বলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কী হলে আপনার খুব ভালো হতো মনে হয়? আমি বলেছিলাম সুন্দরী নারী হলে খুব ভালো হতো, এরপর তো রাস্তায় ধরেছিল সুন্দরী নারীরা।

যদি টাকা থাকে তবে বউ সুন্দরী হয় এমন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ২০০ থেকে ২ হাজার এবং ৩০০ থেকে ৩ হাজার করার ঘোষণা দেয়ার পর এক শিক্ষক মঞ্চে দাঁড়িয়েই আফসোস করে বলেছিলেন ‘এই বেতন যদি আরও ২০ বছর আগে বাড়তো তাহলে আমার বউয়ের চেহারাটা আরও সুন্দর হতে পারতো।’ তবে সুন্দরী বউ হলেই শান্তিতে ঘুমানো যায় না মন্তব্য করেন বরেণ্য এই শিক্ষক।

এর আগে বৈশাখের বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠানে নাগরদোলা, চরকি, বেলুন, শুটিং, কাঁচের চুড়িসহ অনেক কিছুর সমাহার ছিল শিশুদের জন্য।

এছাড়া বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মনোমুগ্ধকর বাউল, দেশাত্মবোধক, ভাওয়াইয়া, সিনেমা ও আধুনিক ও ফোক গানে মাতিয়ে রাখেন শিল্পীরা। সেই সঙ্গে অতিথি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের গানের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন আগতরা।

প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী আবুল হায়াত,  জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. আজাদুল হক ও স্থপতি ফারহানা শারমিন ইমু প্রমুখ।