ঢাকা,সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

ধর্মীয় খাতে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১১ ১৪:৪৭:২৪ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১১ ১৪:৪৭:২৪

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এবারের বাজেটে ধর্মীয় খাতে ব্যয় বাড়িয়ে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়াতে প্রাথমিকভাবে ৪২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে। যা চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় চার হাজার ২৯৬ কোটি টাকা বেশি। গত পাঁচ অর্থবছর ধরেই এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। এই খাতের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

অপরদিকে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে নেওয়া প্রকল্পে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি সৌদি আরব সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তাদের অনীহার কারণে বাংলাদেশ সরকারকে নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রকল্পে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি নজর দেওয়া হবে। মসজিদ ও মন্দির সংস্কারেও বরাদ্দ রাখা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো ডিও লেটারে জেলা সদরে ৬৪টি, সিটি করপোরেশনে ৫টি ও উপকূলীয় এলাকায় ১৬টিসহ মোট ৮৫টি চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ৪৭৫টি উপজেলায় নির্মাণ করা হবে ৩ তলার মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

আরও জানা গেছে, ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে বরাদ্দ দেবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান। তিনি বলেছেন, বরাদ্দ পেলে নির্ধারিত সময়েই সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৬৯ কোটি টাকা।

সম্প্রতি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে জানানো হয়, মসজিদগুলো নির্মাণে ৫২১টি স্থান চূড়ান্ত করে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ৪১৯টি কেন্দ্রের ডিজিটাল সার্ভে করা ছাড়াও সেখানকার মাটি পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। এপিপি সম্পন্ন হয়েছে ৩৬৬টি। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১০টি স্থানে। একই সঙ্গে নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ২১১টির এবং এনওএ ইস্যু করা হয়েছে ১০৭টির।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ডিও লেটারে আরও বলা হয়েছে, ব্যয়ের অন্যান্য খাতের মধ্যে গোপালগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্স স্থাপনে ব্যয় ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী প্রকল্পে ব্যয় ১০ কোটি টাকা, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যয় ৩৮০ কোটি টাকা, ইসলামিক পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রমে ব্যয় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় ৬২ কোটি টাকা, প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ব্যয় ২৪ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে আরও প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী বাজেটে ভর্তুকি খাতে প্রাক্কলিত বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রণোদনা খাতে প্রাক্কলিত বরাদ্দের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং রফতানি উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনাও রাখা হচ্ছে চার হাজার কোটি টাকা। আর পাট খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করছে অর্থ বিভাগ। নগদ ঋণ খাতে আসন্ন বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সাধারণত, ভর্তুকি ও প্রণোদনা বেশি দেওয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেওয়া হয় কৃষি, তৈরি পোশাক রফতানি ও পাট খাতে। নগদ ঋণ দেওয়া হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে। আগামী অর্থবছরে প্রণোদনা বাবদ কৃষি খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরের তুলনায় ১০০ কোটি টাকা কমিয়ে আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি বছর এই খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।