ঢাকা,সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৫ ১০:০৫:০০ || আপডেট: ২০১৯-০৫-১৫ ১০:০৫:০০

প্রি-বাজেট ডিসকাশন অন ব্লু ইকোনমি শীর্ষক আলোচনা সভাসামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি জোন গড়ে তোলা হয়। প্রত্যক্ষভাবে চারটিসহ মোট ১৭টি মন্ত্রণালয়ের ব্লু ইকোনমি নিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনও কাজই হচ্ছে না। কারণ সরকার খুব আগ্রহের সঙ্গে ব্লু ইকোনমি জোন করলেও তা পরিচালনার জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ রাখেনি। ফলে এসব জোনের কার্যক্রমও অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ার মতো অবস্থা। এ অবস্থায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। এজন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এ বিনিয়োগ সরকারের পক্ষ থেকেই প্রথম করতে হবে। ফলে ব্লু ইকোনমির সুফল পেতে বাজেটে বরাদ্দ জরুরি। এ খাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বিশাল অংকের সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাজধানীর কাওরান বাজারের পেট্রোবাংলা ভবনে গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রি-বাজেট ডিসকাশন অন ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদের পরিচালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও গবেষক ড. আতিক রহমান। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জোবায়ের আলম, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সহকারি অধ্যাপক ড. দিলরুবা চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্ম সচিব গোলাম শফিউদ্দিন, গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের সিইও লুৎফুর রহমান, গাজী আনোয়ার প্রমুখ।
ড. আতিক রহমান বলেন, আমাদের দেশের সমুদ্র অর্থনৈতিক এরিয়া অনেক বেশি। কিন্তু সমুদ্রের সম্পদ আহরণ আমরা কিভাবে করবো তার জন্য সঠিক গবেষণা হওয়া দরকার। সরকার চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত ব্লু ইকোনমি বিষয়ে এবং সমুদ্র সম্পদ নির্ণয়ে গবেষণাধর্মী প্রকল্প হাতে নেওয়া। এতে করে আমরা সমুদ্র থেকে কি পরিমাণ মৎস্য আহরণ করবো তার সঠিক পরিমাপ করা যাবে। আবার গভীর সমুদ্র থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণেও একটা সমীক্ষা চালানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সামুদ্রিক সম্পদই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

মো. জোবায়ের আলম বলেন, সমুদ্র বিজ্ঞান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ খোলা হলেও তাতে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। ফলে টাকার অভাবে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞানের পরিবর্তে শুধু বইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে করে এ বিভাগের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এই বিভাগে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে তাদের সঠিকভাবে গবেষণা করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। এতে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদের ব্যবহারে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী হবে। খোরশেদ আলম বলেন, ব্লু ইকোনমি আমাদের দেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এ বিষয়ে চারটি মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনও প্রকল্প তৈরি করা হয়নি।

ড. গোলাম শফি উদ্দিন বলেন, ব্লু ইকোনমির বিষয়ে আমরা ইউনিক আইডিয়া নিয়ে এগোচ্ছি। প্রত্যক্ষভাবে চারটি মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনমি জোন গঠন করা হলেও প্রত্যক্ষভাবে এর সঙ্গে ১৭টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার মনে করেছে, সেল হওয়া দরকার তাই হয়েছে। কিন্তু সেলগুলো টাকার অভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ভালো উদ্যোগও অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়গুলোকে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ব্লু ইকোনমির কাজ এগিয়ে নিতে কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন। সে অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগাতে হলে আলাদভাবে বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে।

ড. দিলরুবা চৌধুরী বলেন, ব্লু ইকোনমির রিসোর্স যেন নষ্ট না হয় সেজন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রয়োজন। এ বিষয়ে এখনও দেশের মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে ভালো ধারণা দিতে পাঠ্যপুস্তকে একটি অধ্যায় সংযোজন করা যেতে পারে।

গাজী আনোয়ার বলেন, ব্লু ইকোনমির গুরুত্ব বোঝাতে গবেষণার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ট্রেন-আপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিকরা যদি ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারেন তাহলে মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।