প্রবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বীমা

:: বিশেষ প্রতিনিধি || প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৭ ০৬:৩৮:১৮ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৭ ০৬:৪০:০২

বিদেশে যেতে ইচ্ছক বা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছে এমন সবার জন্য বীমা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় এই কাজটি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রবাসে গিয়ে মারা গেলে অথবা শারীরিকভাবে অক্ষম হলে এই বীমা থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন তার পরিবার বা কর্মীরা। এ জন্য ‘বীমা পলিসি’ তৈরি করেছে জীবন বীমা করপোরেশন। চলতি মাস থেকে এ বীমা ব্যবস্থা কার্যকর করবে সরকার। বর্তমানে বিদেশে কর্মরত জনশক্তিকেও এ বীমায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৮ থেকে ৫৮ বছর বয়সী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই বীমা করতে হবে। বিদেশে মৃত্যু বা শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্তরা এই বীমার আওতায় দুই লাখ টাকা পাবেন। বীমা প্রিমিয়াম হবে ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ৫০০ টাকা দেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বিদেশগামী কর্মীকে দিতে হবে ৪৯০ টাকা। বিদেশেই দুই বছর মেয়াদি এ বীমার মেয়াদ নবায়ন করা যাবে। ৩১ জুলাই থেকে বীমা সুবিধা চালু করবে।

বিদেশগামী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বীমার আওতায় আনতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের এ বীমা সেবা দেবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি সভায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিদেশগামী কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে বীমার আওতায় আনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘বীমা পরিকল্পে’র প্রিমিয়াম, বীমার অঙ্ক ও প্রাপ্য সুবিধা নির্ধারণ করতে হবে।

বাধ্যতামূলকভাবে দুই বছর মেয়াদি বীমার বাইরে বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা সুবিধার আরেকটি বীমা করার সুযোগ দিচ্ছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। দুই বছর মেয়াদি এ বীমায় প্রবাসে যাওয়ার পর কেউ মারা গেলে বা শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিলে তার পরিবার বা তিনি পাঁচ লাখ টাকা পাবেন। এ ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৪৭৫ টাকা, যার ৫০০ টাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। বাকি এক হাজার ৯৭৫ টাকা বিদেশগামী কর্মীদের পরিশোধ করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। তাদের জন্য এত দিন বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে বিদেশে অবস্থান করা প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে যারা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নির্ধারিত চাঁদা দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ করবেন, তাদের জন্য দুই বছর মেয়াদি দুই লাখ টাকার বীমা বাধ্যতামূলক হবে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য জীবন বীমা করপোরেশন বীমা পরিকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি চালু হওয়ার পর করপোরেশন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ৯ মাস পর বীমাগ্রহীতার সংখ্যা, বীমার অঙ্ক দাবির সংখ্যা, বীমা দাবি নিষ্পত্তির সংখ্যাসহ পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে তা যোগ্য বীমা কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বীমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর কর্মীরা স্বউদ্যোগে তার মেয়াদ নবায়ন করতে পারবেন। বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো কর্মী দেশে ফিরে এলে তিনি কোন পদ্ধতিতে বীমাটি সচল রাখবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

গত মাসে সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে গত জুন পর্যন্ত তিন হাজার ৭৯৩ নারী শ্রমিক প্রবাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে আসা মৃতদেহের সঙ্গে ডেথ সার্টিফিকেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোক উল্লেখ করা হয়েছে। পুরুষ কর্মীর মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১০ জনের মৃতদেহ আসছে বিভিন্ন দেশ থেকে। এ ছাড়া কর্মস্থানে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে অক্ষম হয়ে ফিরছেন অনেক প্রবাসী কর্মী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ