বীমা খাতে আস্থা বাড়াতে প্রয়োজন ব্যাংক অ্যাসুরেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৬ ২০:৪৫:১৫ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৬ ২০:৪৫:১৫

বীমা খাতের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে প্রয়োজন ব্যাংক অ্যাসুরেন্স। এটি করা গেলে এই খাত থেকে দেশের প্রবৃদ্ধি বড় ধরণের অবদান রাখা সম্ভব। উপকৃত হবে ব্যাংক ও বীমা খাত উভয়ই। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক পাবে কমিশন এবং বীমা পাবে গ্রাহক।পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স চালু আছে বলেও বক্তারা।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর গুলশানের ডেল্টা টাওয়ারে আয়োজিত ‘অপারচুনিটিস ইন লাইফ ইন্সুরেন্স ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোম্পানির চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) বিনীত আগারওয়াল।

বিনীত আগারওয়াল বলেন, ‘ভারতে বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানির ব্যাংক অ্যাসুরেন্সের পরিমাণ ৬৭ শতাংশ, ফিলিপাইনে ৭৪ শতাংশ, ইন্দোনেশিযায় ৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ৬৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এটা এখনও চালু করাই সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক অ্যাসুরেন্স চালু হলে বীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। বিশেষ করে ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা বিক্রি হলে ব্যাংক ও বীমা উভয়ই লাভবান হয়। আর এ ক্ষেত্রে ব্যাংক পাবে কমিশন আর বীমা পাবে গ্রাহক। এছাড়াও ব্যাংকের মাধ্যমে ইন্সুরেন্স বিক্রি হলে বীমা কোম্পানিগুলোর নতুন নতুন শাখা করতে হয় না। ফলে তাদের খরচও কমে যায়। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ইন্সুরেন্স পলিসি কিনলে গ্রাহকের আস্থা বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, ব্যাংক অ্যসুরেন্স হলো এমন একটি বীমা পলিসি যেটি ব্যাংকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ’

এছাড়াও ওয়ার্কশপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বীমা খাতের প্রতি এখনও গ্রাহকদের আস্থার অভাব রয়েছে। ফলে বীমা খাতের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, ২০০৯-১০ সালে জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান ১ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু বীমা খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে।

কর্মশালায় বীমা খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তৃতা করেন ডেল্টা লাইফের যুগ্ম-ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম শামিনুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ড. আশরাফ উদ্দীন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব উত্তম কুমার সাধু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে ডেল্টা লাইফ কোম্পানিটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ তিন হাজার ৮২৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহককে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ