সাগরে চলবে খনিজ সম্পদের জরিপ: জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৮ ১৮:৩৮:০২ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৮ ১৯:০৫:১৬

সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে বিডিং রাউন্ডের (দরপত্র আহ্বান) পাশাপাশি মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভে (খনিজ সম্পদের জরিপ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মিয়ানমার এবং ভারত নিজেদের অংশে সুফল পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশের স্থলভাগের উচ্চচাপ এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা উত্তোলন, ভারত থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়েও জানানো হয়। এছাড়া যমুনার বালুতে মূল্যবান খনিজ প্রাপ্তি এবং তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তাদের হিসাব বিবরণী নিয়েও কথা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিসভা উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুমোদন করেছে। এতে সাগরের গ্যাসের দর প্রতি হাজার ঘনফুট সাড়ে ছয় ডলার থেকে বৃদ্ধি করে সাত দশমিক পঁচিশ ডলার করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন বিডিং রাউন্ডে (দরপত্র আহ্বান) যাবে পেট্রোবাংলা। একই সঙ্গে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্লাম বার্জারকে দিয়ে যে জরিপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাও চলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে কোথায় আমাদের কি সম্পদ রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। বড় অনুসন্ধানকারী কোম্পানি সরকারকে নানা সময় পরামর্শ দিলেও মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভের কাজ অন্তত তিন বছরের বেশি সময় ঝুলিয়ে রেখেছিল জ্বালানি বিভাগ।

তিনি আরো বলেন, পায়রাতে সাগরের গভীরতা কম হওয়ার কারণে স্থলভাগে টার্মিনাল নির্মাণ করা যাবে না।

এ সময় তিনি জানান, ভারত থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অয়েল ইন্ডিয়ার সঙ্গে সমঝোতা হয় পেট্রোবাংলার। এর আলোকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে পাইপলাইন বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ওই লাইন দিয়ে সরাসরি সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রিডে এই গ্যাস দেওয়া হবে। এতে করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সরকার।

দেশের স্থলভাগে তেল গ্যাস অসুন্ধানে উচ্চচাপ এলাকায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পিএসসির বাইরে শেভরনের কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। দেশের সব থেকে বেশি গ্যাস উত্তোলনকারী মার্কিন কোম্পানির হাতে রয়েছে বিবিয়ানার মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এই খনিকে সব থেকে সম্ভাবনাময় খনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যমুনার বালিতে খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলেও তা অর্থনৈতিকভাবে উপযোগী কিনা তা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই সরকার কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সহ আরো অনেকে।

এদিকে শুক্রবার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জ্বালানি বিভাগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ