ঈদ ও জাতীয় শোক দিবস ঘিরে সতর্কতা

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৯ ১০:৩৮:২৯ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৯ ১০:৪০:১০

আসন্ন ঈদুল আজহা ও জাতীয় শোক দিবস ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তা ও নজরদারি অনেক বাড়িয়েছে পুলিশ। সতর্ক অবস্থানে আছে বিশেষ ইউনিট ও গোয়েন্দারা। বিগত বছরগুলোতে আগস্ট মাসে জঙ্গি হামলা ও হামলার পরিকল্পনা, সম্প্রতি পুলিশকে টার্গেট করে বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা ফেলে রাখার চার ঘটনা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এবার শঙ্কা বিরাজ করছে। আবার ঈদের ছুটির পরই জাতীয় শোক দিবস হওয়ায় নিরাপত্তা ইস্যু বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি রেঞ্জ, মহানগর ও জেলায় দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হচ্ছে ছুটি।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘ঈদ ও জাতীয় শোক দিবস ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকি আছে বলা যাবে না। তবে এ বিষয়টি মাথায় রেখে বা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

গত ৩০ এপ্রিল গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন দুই ট্রাফিক পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য। ২৬ মে রাতে মালিবাগে এসবি অফিসের সামনে একটি পিকআপে বোমা হামলায় ট্রাফিক পুলিশের এএসআই রাশেদা আক্তার এবং রাস্তায় থাকা রিকশাচালক লাল মিয়া আহত হয়েছিলেন। গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে সচিবালয়ের পাশে পল্টন মোড়ের পুলিশ বক্স এবং মানিক মিয়া এভিনিউয়ের গোল চত্বরের খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের পাশ থেকে বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিটি ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নামে দায় স্বীকার করা হয়। ওই সব ঘটনায় স্থানীয় জঙ্গিদের সন্দেহ করা হলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুলিস্তান ও মালিবাগে বিস্ফোরিত বোমা ইম্প্রুভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি)। উদ্ধার করা বোমা দুটিও আইইডি বা দূর নিয়ন্ত্রিত ছিল। জঙ্গিরা এ ধরনের বোমা ব্যবহার করছে। নিউজিল্যান্ডের পর শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে গত রমজান মাস থেকেই জঙ্গি হামলার শঙ্কা করা হচ্ছে। এরপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে অর্ধশতাধিক জঙ্গিকে। এসব অভিযানে জঙ্গি সংগঠনগুলোর গোপন তৎপরতার তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও জঙ্গি হামলার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

সিটিটিসি ইউনিটের জঙ্গি তৎপরতার ওপর নজরদারি করা একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন আগস্ট মাসে হামলা চালিয়েছে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা ও ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা এবং ২০১৭ সালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার কারণে আগস্ট মাসে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। গোয়েন্দা তথ্যেও সতর্ক করা হয়। এবারও তেমনই সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি থাকছে ঈদের ছুটির বিষয়টি। ২০১৬ সালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে হামলায় নব্য জেএমবির জঙ্গিদের ধর্মীয় উৎসবে হামলার ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

এদিকে পাশের দেশ ভারতের কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার শঙ্কা আছে। থাইল্যান্ডেও হামলা হয়েছে। এসব বৈশ্বিক জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন প্যারামিটার বিশ্লেষণ করে আগস্ট মাসে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাংগঠনিকভাবে বড় হামলা না করতে পারলেও বিচ্ছিন্নভাবে বা ‘লোন উলফ’ হামলার শঙ্কা আছে গোয়েন্দাদের মধ্যেও। তাই নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি নব্য জেএমবি ও এবিটির কয়েক জঙ্গিকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঈদের সময় বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি জঙ্গি হামলার শঙ্কায় দায়িত্ব পালনে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঈদের আগে পশুর হাট ও মার্কেটকেন্দ্রিক নিরাপত্তার পরই রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও ধর্মীয় স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি করা হবে। ঈদের পরই ১৫ আগস্ট হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ