এসিআই থেকে পদত্যাগ করেছে আইসিবির প্রতিনিধি

:: গিয়াস উদ্দিন || প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২০ ২৩:০৯:১৪ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২০ ২৩:১৬:২৪

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এসিআই লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছে আইসিবির প্রতিনিধি। প্রতিষ্ঠানটিতে আইসিবির প্রতিনিধি ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক। গত মাসে তিনি এসিআই এর পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আইসিবি প্রতিষ্ঠানটির ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এই শেয়ারের বলেই আইসিবি থেকে একজন প্রতিনিধি কোম্পানিটির পর্ষদে বসতেন। গত কয়েক বছর কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসসিআই লাজিস্টিক ধারাবাহিক লোকসান করেেআসছে। যার প্রভাব পড়ছে মূল কোম্পানি এসিআই লিমিটেডে।

কোম্পানিটির এই অবস্থা দেখে ডিএসইতে অভিযোগ করে একজন বিনিয়োগকারী। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি করে ডিএসই। কমিটির প্রতিবেদন গত ৩০ মে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে জমা দিয়েছে ডিএসই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সান বিডিকে বলেন, কোম্পানির লোকসানের বিভিন্ন তথ্য আইসিবির পক্ষ থেকে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর দেয়নি। ফলে তারা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছে।

সূত্র মতে, এসিআই লিমিটেডের ধারাবাহিক লোকসানকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর পর্ষদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে। পরে ডিএসই কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই জন্য প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপ্রতি সিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান করে গত ( ১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ কমিটি করা হয়েছে। কমিটি প্রথম বৈঠক করেছে গত ( ১৭ ফেব্রুয়ারি)। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানিটির কাছে লোকসানের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে কমিটি।

কোম্পানিটির দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি কমিটি। পরে বিষয়টি পর্ষদ সভায় উঠানো হয়। পর্ষদ এটি আরও ভালো করে দেখার জন্য দায়িত্ব দেন ডিএসইর প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তাকে (সিআরও)। পরে গত ১২ মে ডিএসইর পর্ষদ সভায় তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ডিএসই। পরে সেই বিষয়টি পরবর্তী পর্ষদ সভায় (২৩ মে) আবারও উপস্থাপন করা হয়। ২৩ মে পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত হয় কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে গত ৩০ মে চিঠি দিয়েছে ডিএসই।

উল্লেখ্য, এর আগে এই আইনে বিএসইসি কয়েকটি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষা করেছে। নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে বড় ধরণের জরিমানাও করেছে।

প্রসঙ্গত, কোম্পানিটি তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিক লিমিটেডকে (স্বপ্ন) গত ১০ বছর ধরে তার রিজার্ভ থেকে লোকসানের বিপরীতে ভর্তুকি দিচ্ছে এসিআই। এ কারণে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে নানা ধরনের সন্দেহ ও কোম্পানির মালিকপক্ষের প্রতি আস্থায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে সমাপ্ত চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর’ ১৮) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে কোম্পানিটি ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা লোকসান দেখায়। আর শেয়ার প্রতি লোকসান দেখানো হয় ৭৮ পয়সা। অথচ আগের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। সে বছর ইপিএস দেখানো হয়েছিল ৫ টাকা ৪৪ পয়সা। এসিআই-এর মতো ব্লুচিপ কোম্পানির এই লোকসানের বিষয়টি পুঁজিবাজার অঙ্গনে বির্তক সৃষ্টি করে। বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন জানানো হয়।

এসিআই লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, পাঁচটি কারণে কোম্পানিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণগুলো হচ্ছে- ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের সুদ হার বৃদ্ধি, সহযোগী কোম্পানিগুলো থেকে লভ্যাংশ প্রাপ্তি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং আয়কর খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল, মোড়কজাত করার উপকরণ এবং সম্পূর্ণ তৈরি পণ্য আমদানিতে কোম্পানিটিকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এসব পণ্যের জন্য কোম্পানিটিকে ব্যাপকভাবে বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়।

গত প্রান্তিকের শুরু থেকে ব্যাংক ঋণের সুদ হার বেশ ঊর্ধ্বমুখী। এটি কোম্পানির মুনাফার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলোচিত প্রান্তিকে অর্থায়ন তথা ঋণের সুদ বাবদ এসিআই লিমিটেড আগের বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করেছে বা করতে হয়েছে। উল্লিখিত প্রান্তিকে অর্থায়ন ব্যয় বাবদ কোম্পানিটির ৭৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগের বছর একই প্রান্তিকে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

বেশ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের কোম্পানি রয়েছে এসিআই লিমিটেডের। এছাড়াও এর রয়েছে কয়েকটি অ্যাসোসিয়েট কোম্পানি। এসিআইয়ের মুনাফার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এসব কোম্পানি থেকে। কিন্তু আলোচিত প্রান্তিকে এসব কোম্পানি থেকে ২০ শতাংশ কম আয় এসেছে এসিআইয়ের ঘরে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ