ঈদের ছুটির ৯ দিনে সড়কে ১৮৫ জন নিহত: নিসচা

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২৪ ১৫:১৭:২৫ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২৪ ১৫:১৭:২৫

নিরাপদ সড়ক চাই এর সংবাদ সম্মেলন ঈদুল আজহার ছুটির ৯ দিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৫ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩৫৫ জন। মোট ১৩৫টি দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আজ শনিবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ জানান, এবার ঈদে ১০ থেকে ১৮ আগস্ট সড়কপথে ১৩০টি, রেলপথে ২টি এবং নৌপথে ৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এবার উত্তরবঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এ বছর ঈদুল আজহার সময় সারাদেশে সড়ক পথে গাড়ি চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে তিনটি সেতু খুলে দেওয়ার কারণে এ পথে যানজট তেমন দেখা যায়নি। সড়ক দুর্ঘটনাও এ পথে তুলনামূলক কম হয়েছে। কিন্তু খুলনা ও যশোর অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি বরং বেড়েছে।

দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যানবাহনের সিডিউল বিপর্যয়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, মহাসড়কে ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন বা সার্ভিস রোড না থাকা, ঈদ ফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা, সড়কের বেহাল দশা, গাড়ি না পেয়ে মোটরসাইকেলের যাত্রা, সড়কে নৈরাজ্য নিয়ম না মানার প্রবণতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। ট্রাফিক আইন না মানা এবং একের বেশি যাত্রী নেওয়ার কারণে বেশিরভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার এক লাখ দক্ষ প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করার যে পরিকল্পনা নিয়েছেন সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দক্ষ চালক তৈরি করতে হবে। এতে সরকারের যে পরিকল্পনা- প্রতি ঘরে ঘরে একজনের কর্মসংস্থান করে দেওয়া সেটা বাস্তবায়ন হবে। এটাই একমাত্র সেক্টর যেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে কেউ বেকার থাকবে না। তাই, সরকারের প্রতি আহ্বান, আপনারা প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করুন। এতে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা দূর হবে অন্যদিকে দুর্ঘটনা কমে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম সম্পাদক বেলায়েত হোসেন নান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ