পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সকলেই ঐক্যবদ্ধ- অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৬ ১৬:২৩:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৯-১৬ ১৭:৪১:০৮

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পুঁজিবাজরের উন্নয়নে আজ আমরা সকলে একমত হয়েছে। যে জায়গায় যেসব সমস্যা আছে তার সমাধান করে পুঁজিবাজারকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, অর্থনীতির মূল এলাকা হলো পুঁজিবাজার। আমাদের অর্থনীতে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজার সেভাবে এগোচ্ছে না। অর্থনীতির মূল হয়েও পুঁজিবাজারের পিছিয়ে থাকা কাম্য নয়। পুঁজিবাজারের উন্ননের জন্য যেসব সমস্যা আছে আমরা যার যার জায়গা থেকে তার সমাধান করে বাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজারে আইপিও আনবো। আইপিওগুলো যাতে যথাযথ ভেলুতে আসতে পারে, সেদিকেও আমরা নজর দিবো। বাজারের সাথে দেশে সকল মানুষ যারা বাজারকে নিয়ে চিন্তা করে তাদেরকে আমরা বাজারে আনবো।

তিনি বলেন, আমরা সবার সহযোগিতা এবং সহায়তায় আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চাই। অর্থনীতির মৌলিক এলাকা হচ্ছে শেয়ারবাজার। সুতরাং এই মৌলিকএলাকাকে আমরা কখনো অবহেলা করতে পারি না। আমাদের সরকার অনেক চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অনেকবার বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জানেন এই বাজারের সাথে আমাদের মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা জড়িত আছেন। সুতারাং সবার জন্য এই পুঁজিবাজার। এই কারনে পুঁজিবাজার সবসময় আমাদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করে। পুঁজিবাজারকে নিয়ে আমরা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকি। যাতে করে পুঁজিবাজারে যারা ব্যবসা করতে আসে তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

মুস্তফা কামাল বলেন, সভায় আমরা নিজেদের মধ্যে বাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন আরও কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। এরপরে পুঁজিবাজারের জন্য করণীয় কাজগুলো দ্রুত করা হবে। আলোচনা সভায় সবাই একমত হয়েছে যে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ছাড়া আমাদের সামনে আরো কোনো চিন্তা নাই। পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য সরকার যেটুকু সহায়তা দিতে পারে, তা দেবে। সরকারের বিভিন্ন ডিভিশনের সবাই ঐক্যমতে পৌছেছি যে, আমরা আমাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবো।

মন্ত্রী বলেন, আলোচনায় পুঁজিবাজারের জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা উঠে এসেছে, সেগুলো দূর করা হবে। যাতে বাজার একটি অবস্থানে আসতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী হয়। এসময় তিনি বলেন, সবাই জানেন দেশের অর্থনীতির গতি কতটুকু। আমার বেশি কিছু আশা করি না। শুধুমাত্র অর্থনীতি যতটুকু গতিশীল, পুঁজিবাজারকে ততটুকু গতিশীল দেখতে চাই।

তিনি বলেন, আজকের আলোচনায় বোঝা গেছে কিছু বিষয়ে বিশ্বাস অবিশ্বাস জন্মেছে। এর পেছনে কয়েকটি কারনের মধ্যে রয়েছে- ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না। সেগুলোকে বাজারে আনার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি যথাযথ দামে আসার বিষয়টি দেখতে হবে। আর সুশাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সুশাসন নিশ্চিত করব। যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এক্ষেত্রে যেই হোক না কেনো ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করব। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে জনগনের আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে আমাদেরকে সুশাসন কোনভাবেই দোষারোপ করতে পারবেন না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারী কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসবে, সেটা আমি আপনাদেরকে বলতে পারি। তবে এগুলোকে আনতে সময় দিতে হবে। কারন আপডেটেড আর্থিক হিসাব তৈরী করতে হবে। এখন কোম্পানির সব সম্পদ মূল্যায়ন করে আনতে হবে। এক্ষেত্রে সময় লাগবে। তবে নতুন কোম্পানিগুলোর অনুমোদনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির শর্ত দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং সরকারী কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসার বিষয়ে সবাই নিশ্চিত থাকেন।

২০০৫ সালে সরকারি কোম্পানি আনা হবে বলে ঘোষণা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুরাতন কথা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আগে যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীও সিরিয়াস। উনি চাচ্ছেন সরকারী কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসুক। তবে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে আসুক সেটাও চান। তাই আমরা মনে করি না, প্রধানমন্ত্রীর বাহিরে গিয়ে কেউ এ বিষয়ে বিরোধিতা করবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আয়োজিত সভায় অর্থ সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সোনালি, অগ্রণী, জনতা ও রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সান বিডি/এসকেএস

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ