বিশ্বব্যাপী বীমা গ্যারান্টি ব্যাংকের চেয়ে শক্তিশালী: শেখ কবির

:: গিয়াস উদ্দিন || প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৭ ১১:১৫:৫৫ || আপডেট: ২০১৯-০৯-১৭ ১২:৫৫:১০

বীমা মালিক ও নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বীমা গ্যারান্টি ব্যাংকের চেয়ে শক্তিশালী। লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) ক্ষেত্রে বীমাটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে তার উল্টো। সম্প্রতি দেশের অন্যতম অনলাইন নিউজ পোর্টাল সানবিডির সাথে একান্ত আলাপ কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের বীমা খাতের সম্ভাবনা অনেক। কিছু সমস্যার কারণে আমরা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছি না। তবে সেই সমস্যাগুলোর অনেকটাই সমাধান হয়েছে। কিছু সমস্যা সসমাধানের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আশা করি সামনের দিকে এই সমস্যা থাকবে না। কারণ সরকার এখন এই খাতের বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক।

শেখ কবির বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সাথে কাদে কাদ মিলিয়ে এখাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নন-লাইফের জন্য কমিশন বাণিজ্য ছিলো একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সবাই একমত হয়েছি। এর ফলে কমিশন দেয়ার ব্যাপারে যে প্রতিযোগিতা রয়েছে সেটা বন্ধ হবে। আর প্রতিযোগিতা বন্ধ হলেই ণন-লাইঠ খাতে একটি ভালো পরিবেশে আসবে।

আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বীমা খাতের অবদান খুবই সামন্য। এটি বাড়ানোর জন্য কাজ করিছ। আমি একটি কথা বলি সব সময়, যে দেশের বীমা খাত যতো উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি ততোবেশি শক্তিশালী। বিদেশে বীমা কোম্পানিগুলোকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। বলতে রাখাপ শুনায় তাদের দেশে ব্যাংকের চেয়েও বীমার বিশ্বস্ততা বেশী।তাদের দেশে নৌকা বীমা, পশু বীমা সবই আছে আমাদের দেশে কিছুই নেই।

আমার মনে হয় বীমাকে যদি ভালো পথে আনা গেলে দেশের জন্য অনেক ভালো হবে। বীমা দ্বারা দেশের অনেক উন্নতি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ বীমার টাকা দিয়েই কিন্তু উন্নত দেশ গুলো মেগা প্রজেক্টের কাজ হাতে নেয় । আমাদের পাশবর্তী দেশ ভারতেও মেগা প্রজেক্ট গুলো বীমার মাধ্যমে হচ্ছে।

আমি বলেছিলাম জীবন বীমার টাকা দিয়ে আমরা পদ্মা সেতু করবো। আসলে কিন্তু এটা সম্ভব। তখন এটার দায়িত্ব নিতে পারতো। কিন্তু তখন যারা এটার দায়িত্বে ছিলো তারা এ দায়িত্ব নিতে পারেনি। আসলে জীবন বীমার টাকা পরে থাকে অলসভাবে । কোন কোন সময় তারা জমি জমা কিনে বা ভিন্ন কিছু করে বীমার নামে। সেটা কতো খানি সঠিক ভাবে ব্যয় হচ্ছে এটাও একটা প্রশ্ন?

এই জন্যই আমি বলছিলাম এই টাকাটা সরকার নিয়ে মেগাপ্রকল্পগুলোতে কাজে লাগাতে পারে। অন্য দেশের সরকার যেভাবে নেয়, আপনারাও সেভাবে নেন। যদিও সরকার এখন নতুন আইন করছে বন্ডের মাধ্যমে বীমার টাকাটা নিচ্ছে। শতাংশের দিক থেকে জীবন বীমার বেশি। এদের টাকা এখন কম নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সেটাও এক দিক দিয়ে ভালো, টাকাটা ব্যাবহার হবে হচ্ছে। আমরাও কতোগুরো পদক্ষেপ নিয়েছি বীমা খাতকে স্বাভাবিক করার জন্য। এবং তাদের যে সমস্ত সমস্যা আছে সেগুলো যাতে কাটিয়ে উঠতে পারি।

আইডিআরএ বীমা মালিকদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে জানিয়ে শেখ কবির বলেন, আইডিআরএ পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও আমাদের সাথে কাজ করছে। আমরা সম্মিলিতভাবে আডিআরের নেতৃ্ত্বে কাজ করতেছি। ভালো লাগার বিষয় হলো সংস্থাটি যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের সাথে আলাপ করে। এ জন্য আমি আইডিআরএকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। সচিবও আমাদেরকে সব সময় সকল বিষয়ে সহযোগিতা করেন তাকেও ধন্যবাদ জানাই।আমরা সাবই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বীমা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এ ক্ষেত্রে কারো সমস্যা হলো সবাই মিলে তার সমসাধান করবো।

বীমা খাতে আস্থা সংকট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমরা কিন্তু এখন কাজ করতেছি নন-লাইফ নিয়ে। এটি শেষ করে জীবন বীমায় হাত দিবো। আস্থা সংকটটা বেশী জীবন বীমার উপরে। কারণ এখানেই সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বেশি। এখানে সমস্যা হলো সাধারণ একজন মানুষ ৫০ হাজার টাকার একটা বীমা করলো, কিন্তু ঠিকভাবে পেলো না । এটা কিন্তু পুরো এলাকায় ছড়িযে পড়ে। এটার সমস্যা হলো যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক বীমা গ্রহল করে, সে প্রথমবার ঠিকই টাকা আনা দ্বিতীয়বার আর আনতে যায় না। ফলে এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মেয়াদ শেষ হলে বীমাটা পেমেন্ট যোগ্য হয় না । তখন তার টাকাটা বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এটাই হচ্ছে আমাদের বড় সংকট। আস্থা সংকটের জন্য বড় একটা বিষয়। কিছু আছে বীমার টাকা পাওয়ার যোগ্য হলেও টাকা পায় না,তখন এটা আমাদের কাছে আসলে আমরা এটা সমাধান করি বা আইডিআরএ পাঠিয়ে দেই। আইডিআরএ কিন্তু এখন বেশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। নন-লাইফের কাজ হলেই আমরা লাইফ নিয়ে কাজ শুরু করবো। আমরা একটা একটা করে শুরু করবো।

নতুন বীমা কোম্পানির বিষযে তিনি বলেন, বর্তমানে যা আছে, এগুলো যতেষ্ঠ। যারা আছে তারা যদি সঠিকভাবে কাজ করুক। এখন সঠিকভাবে কাজ করতেছে কি না বা কতো শতাংশ লোক লাইফের আওতায় এসেছে । এটা খুবই কম। খুবই কম জনগণকে আমরা লাইফের আওতায় আনতে পেরেছি। এজন্যই সরকার নতুন কোম্পানি অনুমোদন দিচ্ছে। বেশি কোম্পানি হলো তাদের মাঝে প্রতিযোগিতা বাড়বে তখন তারা কাজ করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ