মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলতে আলোচনা

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-১০-০১ ১১:৩৬:২৫ || আপডেট: ২০১৯-১০-০১ ১১:৩৬:২৫

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তির অধীনে অনৈতিক ব্যবসা হয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে মালয়েশিয়ার সরকার গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থায় দুই দেশের সরকার নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

এ বিষয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নতুন একটি প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা করছি, যেখানে আগের অনেক বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।’

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে তিন দফা বৈঠক হয়েছে। শেষ বৈঠকটি হয়েছে গত মে মাসে মালয়েশিয়ায়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়েছি এবং এ বিষয়ে আরেকটি বৈঠক হবে।’

আগের চুক্তিতে বলা ছিল, শ্রমিক পাঠানো হবে জি-টু-জি প্লাস পদ্ধতিতে। তবে নতুন প্রোটোকলে এটি শুধুমাত্র বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পাঠানো হবে। অর্থাৎ গোটা বিষয়টি বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে হবে বলে তিনি জানান।

ওই কর্মকর্তা জানান, এছাড়া মেডিক্যাল, কল্যাণ ও ইন্স্যুরেন্সের জন্য একটি বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এই খরচের কত শতাংশ মালিক বহন করবে এবং কত শতাংশ শ্রমিকদের বহন করতে হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আটক বা ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত শ্রমিকদের দেশে ফেরত আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সহায়তা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আটক বা অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়বদ্ধ করার প্রস্তাব করেছিল। তবে এ বিষয়ে আমাদের আপত্তি আছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সই হওয়া চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের মাত্র ১০টি কোম্পানির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো যেতো। কিন্তু এর যথেচ্ছ অপব্যবহারের কারণে শ্রমিক পাঠানোর খরচ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

গত বছর মাহাথির মোহাম্মাদ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরে তিনি এই চুক্তি স্থগিত করেন এবং নতুন চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হয়। তিনি যুক্তি দেখান, শুধুমাত্র ১০টি কোম্পানির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠালে খরচ অনেক বেশি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য একটি সাধারণ কাঠামো তৈরি করতে চাইছে।’

এই কাঠামো সব বিদেশি শ্রমিকের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং এর ফলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৩০ হাজার ৪৮৩, ২০১৬ সালে ৪০ হাজার ১২৬, ২০১৭ সালে ৯৯ হাজার ৭৮৭ এবং ২০১৮ সলের প্রথম সাত মাসে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬২ জন বাংলাদেশি শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় গেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ