ইন্দো-বাংলার প্লেসমেন্ট গুজবে ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীরা

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-১০-০২ ১০:২২:২৫ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৩ ০৯:০১:২০

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের লকিং ফ্রি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে কোম্পানির শেয়ারের দরে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিষয়টি সত্য নয়, পুরোটাই গুজব। প্লেসমেন্টহোল্ডারদের শেয়ার অনেক আগেই বাজারে চলে এসেছে।

সূত্র মতে, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্লেসমেন্টহোল্ডারদের শেয়ার লকিং ফ্রি হয়েছে গত ১৩ মার্চ। আর বিএসইসি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী দিয়েছে গত ৮ মে। এই সংশোধনীতে প্লেসমেন্ট শেয়ার লকিং ফ্রির কথা বলা হয়েছে তিন বছর। এই সংশোধনী দেওয়ার দুই মাস আগেই প্লেসমেন্ট শেয়ার লকিং ফ্রি বাজারে লেনদেন হচ্ছে।

এবিষয়ে কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা হলে সিএফও সানবিডিকে বলেন,প্লেসমেন্টহোল্ডারদের শেয়ার লকিং ফ্রি সংক্রান্ত যে সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, এটি সত্য নয়। যারা এই সংবাদ প্রকাশ করেছে, তারাই আবার ভূল স্বিকার করে মিথ্যা বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

এদিকে কোম্পানি তার ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ডিএসই সূত্র মতে, হংকংয়ের আরএইচকে গ্লোবাল (এইচকে) লিমিটেডের সঙ্গে ওষুধ উৎপাদন সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করেছে কোম্পানিটি। গত (২৭ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, গত ২৬ আগস্ট এ চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস সুপার ট্রেমেক্স-১০০ এমজি ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট (জেনেরিক নাম-ট্রামাডোল) উৎপাদন করবে। যা আরএইচকে গ্লোবাল লিমিটেডের কাছে রফতানি করা হবে।

কোম্পানির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ডিএসই জানিয়েছে, প্রতি বছর ইন্দো-বাংলা ১২০০ মিলিয়ন ট্যাবলেট উৎপাদন করবে। এ প্রকল্প থেকে কোম্পানিটি বছরে ৬০০ মিলিয়ন টাকা আয় হতে পারে।

অন্যদিকে, গত ৫মে ডিএসইতে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের লক্ষ্যে চুক্তি করেছে সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। কোম্পানিটি নিপ্রো জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের কারখানায় অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করবে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সেফালসপোরিন এবং পেনিসিলিন শ্রেণীর অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করবে ইন্দো-বাংলা। তাই নিপ্রো জেএমআই ফার্মার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তিমতে, নিপ্রো জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের কারখানায় এ অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করা হবে। অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ইন্দো-বাংলা এনে দেবে। আর তৈরি করবে নিপ্রো জেএমআই ফার্মা লিমিটেড। আর প্রথমবারের মত অ্যান্টিবায়োটিকগুলো উৎপাদন ও বিপণন করতে যাচ্ছে ইন্দো-বাংলা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সেফালসপোরিন শ্রেণীর অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ডেডিকেটেড কারখানায় উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ যে কারখানায় সেফালসপোরিন শ্রেণীর অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়, সেখানে আর অন্য কোনো ওষুধ তৈরি করা যায় না। আর এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তাছাড়া ইন্দো-বাংলায় এ ধরনের কোনো ডেডিকেটেড কারখানা নেই। তাই নিপ্রো জেএমআই ফার্মার কারখানায় এ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির চুক্তি হয়েছে।

এদিকে, কী পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। বাজার যাচাই এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা পর্যালোচনা করে ওষুধের পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সেফালসপোরিন ও পেনিসিলিন শ্রেণীর অ্যান্টিবায়োটিক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বাজারে সেফালসপোরিন শ্রেণীর অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা বেশি।

প্রসঙ্গত,এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড, ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড ওষুধ ও রসায়ন খাতের এ কোম্পানিটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ