১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৯ হাজার

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৮ ১২:৩২:০১ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৮ ১২:৩২:০১

বাংলাদেশের সড়ক যেন এক মৃত্যুপুরী! কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। হাত-পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। দুর্ঘটনার কারণে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সড়ক নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হয়েছে। তারপরেও চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিযোগিতা যেন থামছেই না। সরকারের নানা পদক্ষেপ, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা ও জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির পরও দুর্ঘটনা থামছে না।

গত এক যুগে দেশের বিভিন্ন সড়কে ৩০ হাজার ৯৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন হয়েছেন ২৯ হাজার ৬৮৮ জন, আহত হয়েছেন ২৩ হাজার ৩২ জন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০০৮ সালে, ৪ হাজার ৪২৭টি। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০১৪ সালে, ২ হাজার ২৭টি। ২০১৮ সালে সংঘঠিত ২ হাজার ৬০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬৩৫ জন ও আহত ১ হাজার ৯২০ জন। সবশেষ, চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে ৮৪৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮২৭ জন ও আহত ৬৫৮ জন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাজশাহী সার্কেলের এক জরিপ প্রতিবেদনে দেশের সড়ক দুর্ঘটনার এ ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে। রাজশাহীসহ সারাদেশের সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটেছে প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সারাদেশে ২০০৮ সালে ৪ হাজার ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৫ জন ও আহত ৩ হাজার ২৮৪ জন। ২০০৯ সালে ৩ হাজার ৩৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৯৫৮ জন ও আহত ২ হাজার ৬৮৬ জন।

২০১০ সালে ২ হাজার ৮২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬৪৬ জন ও আহত ১ হাজার ৮০৩ জন। ২০১১ সালে ২ হাজার ৬৬৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৫৪৬ জন, আহত ১ হাজার ৬৪১ জন। ২০১২ সালে ২ হাজার ৬৩৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৫৩৮ জন ও আহত ২ হাজার ১৬৪ জন।

২০১৩ সালে ২ হাজার ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ হাজার ৯৫৭ জন ও আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৬ জন। ২০১৪ সালে ২ হাজার ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬৭ জন ও আহত ১ হাজার ৫৩৫ জন।

২০১৫ সালে ২ হাজার ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৩৭৩ জন, আহত ১ হাজার ৯৫৮ জন। ২০১৬ সালে ২ হাজার ৫৬৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৪৬৩ জন, আহত ২ হাজার ১৩৪ জন। ২০১৭ সালে ২ হাজার ৫৬২টি দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৫১৩ জন ও আহত ১ হাজার ৮৯৮ জন।

২০১৮ সালে ২ হাজার ৬০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬৫৩ জন ও আহত ১ হাজার ৯২০ জন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৮৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮২৭ জন ও আহত হয়েছেন ৬৫৮ জন।

প্রতিবেদনে রাজশাহী জেলার সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, রাজশাহীতে চলতি বছরের জুলাই মাসসহ মোট তিন বছরে সংগঠিত ৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছেন। জেলায় ২০১৭ সালে ১১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ১৪টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত আটটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, আহত হয়েছেন ৩১ জন।

এ বিষয়ে বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক এ এস এম কামরুল হাসান জানান, রাজশাহী জেলার আওতায় জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে মোট ১৪৭ দশমিক ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১০২ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার ও আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪৪ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার। তবে এ মহাসড়কে ১৭ শতাংশ চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মাঝে মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু, সেগুলো অনেক সময় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। অভিযানকালে অনেক মালিক ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামান না। অভিযান শেষে আবারও চলে এসব যানবাহন। এছাড়া, অধিকাংশ যানবাহনের চালক প্রশিক্ষিত না। বেপরোয়া গতির পাশাপাশি চালকের অদক্ষতা, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ওভারটেকিং করা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রা ক্রসিং না থাকা ও না মানা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, ফুটপাত দখল এবং যাত্রীদের অসতর্কতাও অনেকাংশে দায়ী।

এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী পরিচালক এ এস এম কামরুল হাসান বলেন, সরকারি নানান উদ্যোগের পরও সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিআরটিএ এখন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন পরিচালনার দায়ে জরিমানা করছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কাউকে হালকা বা ভারী যানবাহন চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রশিক্ষণ, লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না।

রাজশাহীসহ গোটা দেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় কমাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ