আইএফআইসি ব্যাংক ও সমকাল শিল্প বাণিজ্য পুরস্কারে বক্তারা

অবকাঠামো প্রস্তুত,প্রয়োজন দক্ষ জনবল

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৩ ০৮:২১:৪১ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৩ ০৮:২১:৪১

দেশের অবকাঠামো প্রস্তুত, দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল। এই জায়গায় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। আর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ কলকারখান প্রসার ঘটানো।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘আইএফআইসি ব্যাংক-সমকাল শিল্প ও বাণিজ্য পুরস্কার-২০১৮’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে চার ক্ষেত্রে বিজয়ী উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ।

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমকাল এবার শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। সফল ব্যবসায়ীদের জন্য চালু করেছে শিল্প ও বাণিজ্য পুরস্কার। এক্ষেত্রে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এ দৈনিকের পাশে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক আইএফআইসি। দেশের গুণী ব্যবসায়ীদের কাজের মূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রবর্তিত হয়েছে পুরস্কার।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ এ সারওয়ার। সভাপতিত্ব করেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। পুরস্কার ঘোষণা করেন জুরি বোর্ডের সদস্য বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ।

পাঁচ খাতে দেওয়া হয়েছে এই পুরস্কার। এগুলো হচ্ছে আজীবন সম্মাননা, বর্ষসেরা বৃহৎ শিল্প উদ্যোগ, বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা, উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা ও সেরা এসএমই উদ্যোগ। বৃহৎ শিল্প উদ্যোগ পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানির পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (বিপণন) হুমায়ুন কবির। নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামের মেসার্স আফিয়া খানম ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী রুবা খানম। তরুণ উদ্যোক্তার পুরস্কার পেয়েছেন ফরচুন সুজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান। সেরা এসএমই উদ্যোগ পুরস্কার পেয়েছে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সাজেদুর রহমান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ গানের সঙ্গে সামিনা হোসেন প্রেমা ও তার দলের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপরই উপস্থাপন হয় আইএফআইসি ব্যাংক-সমকাল শিল্প ও বাণিজ্য পুরস্কার বিষয়ক একটি তথ্যচিত্র। এছাড়া প্রতিটি পুরস্কার ঘোষণায় পরই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন তাসনুভা মোহনা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সমকালের এ উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক। এ পুরস্কার ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেবা, শিল্প ও কৃষি সব খাতেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নতি করতে পারবে তা এক সময় বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিবিদ ভাবতে পারতেন না। সকলে মনে করতেন বাংলাদেশ বিদেশি সহায়তানির্ভর দরিদ্র দেশ হয়েই থাকবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপ দিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন রেফারেন্স কান্ট্রি। এখন সময় শিল্পায়নের। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি সফল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতার কর্মকাণ্ড বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের কারণেই দেশ এগোচ্ছে। এজন্য ব্যবসায়ীদের স্বীকৃতি দরকার। এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়। এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সময় তথ্যপ্রযুক্তির। রোবোটিক, ন্যানো টেকনোলজি আসছে। অনেকে বলছেন, এখন থেকে শিল্প কারখানা চালাবে রোবট। আশা করা যায়, বাংলাদেশ রোবট উৎপাদন করবে এবং রোবট ব্যবস্থাপনা করতে যা লাগে তাই করবে। তবে সেজন্য দরকার দক্ষতা। তিনি মনে করেন বাংলাদেশ এ দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সমকাল ও আইএফআইসি ব্যাংকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে। দারিদ্র্য কমেছে। মানুষের গড় আয় বেড়েছে। মূল্যস্ম্ফীতি স্বাভাবিক। শস্য, মাছ, সবজি উৎপাদন এখন অনেক বেশি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের উন্নয়ন লক্ষ্য ঠিক করে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করেছেন। উদ্যোক্তারা সেই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। আগামীতে সমকালের এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনে এফবিসিসিআই পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ এ সারওয়ার বলেন, শিল্পোদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সম্মানিত করা আইএফআইসি ব্যাংকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেই খাপ খায়, যে কারণে সমকালের এ উদ্যোগের সঙ্গে আইএফআইসি ব্যাংক সম্পৃক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রার শুরু থেকে অর্থায়ন করে আসছে আইএফআইসি ব্যাংক। এসএমই, কৃষি খাতে সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন ধরনের সেবা চালু করা হচ্ছে। আইএফআইসি ব্যাংক মনে করে শুধু মুনাফাই ব্যবসার আসল পরিচয় নয়, দক্ষতা একটি প্রতিষ্ঠানের বড় বিষয়। তা নাহলে কাজটি টেকসই হয় না। প্রতিষ্ঠানের কাজের মাধ্যমে সমাজ কীভাবে উপকৃত হচ্ছে তাও বিবেচনা করে আইএফআইসি ব্যাংক। সমাজের মঙ্গলই আইএফআইসি ব্যাংকের লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি আইএফআইসি ব্যাংক-সমকাল শিল্প ও বাণিজ্য পুরস্কারের প্রেক্ষিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ বছর সমকাল ১৫ বছরে পা দিয়েছে। ‘নতুন দিন নতুন স্বপ্ন’ স্লোগানে সমকাল সামনের দিনগুলোকে দেখছে। যাত্রার শুরু থেকেই নানা রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এ পত্রিকাটি। সমকাল মনে করে শুধু প্রচার ও প্রকাশনার মধ্যেই একটি পত্রিকার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সেজন্যই অন্যান্য কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি যারা শিল্প ও ব্যবসার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তাদের সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পুরস্কার ধারাবাহিকভাবে চলবে। তিনি বলেন, আগামীতে সমকাল অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ ধরনের উৎসাহমূলক পুরস্কার চালু করার পরিকল্পনা করছে। তিনি এক্ষেত্রে সমকালকে সহযোগিতার জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

আইএফআইসি ব্যাংক ও সমকাল প্রথমবারের মতো যৌথভাবে এ পুরস্কার চালু করেছে। গত বছরের ১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ছকে আবেদন নেওয়া হয়েছে। জমা পড়া আবেদনের মধ্য থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৯ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ জুরি বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়। জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান, এমসিসিআইর সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ এ সারওয়ার জুরি বোর্ডে সদস্য ছিলেন। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রতিষ্ঠানের আয় ও মুনাফা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতাসহ বিভিন্ন বিষয় পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করতে বিবেচনায় নেয় জুরি বোর্ড। পুরস্কারের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইর সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, এফবিসিসিআইর পরিচালক আমজাদ হোসেন, আজাদ প্রোডাক্টসের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, পূবালী ব্যাংকের এমডি আবদুল হালিম চৌধুরী, মিডল্যান্ড ব্যাংকের এমডি মো. আহসান উজ জামান, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ল্যাবএইড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সাকিফ শামীম, প্রাণ গ্রুপের এমডি ইলিয়াস মৃধা, আরএফএল গ্রুপের এমডি আরএন পাল, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল, মিনিস্টার হাইটেক পার্কের হেড অব ব্র্যান্ড কেএমজি কিবরিয়া প্রমুখ। সমকালের সিনিয়র সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) শাহাব উদ্দিন, উপ-সম্পাদক আবু সাঈদ খান, ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ, প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, সহকারী সম্পাদক শেখ রোকন, বাণিজ্য সম্পাদক জাকির হোসেন, জিএম (মার্কেটিং) ফরিদুল ইসলাম, ইনচার্জ, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ইমরান কাদির প্রমুখ।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতিক্রিয়া :প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীকে দেওয়া আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করেন তার ছেলে প্রাণ গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও মেয়ে প্রাণ গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী। আহসান খান চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। তিনি বেঁচে থাকলে এ পুরস্কারে খুশি হতেন। যে স্বপ্ন নিয়ে আমজাদ খান চৌধুরী প্রাণ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান আহসান খান চৌধুরী। উজমা চৌধুরী বলেন, ‘বাবার কাজের স্বীকৃতি নেওয়া অন্যরকম অনুভূতি। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সেরা ৫টি ব্র্যান্ডের অন্যতম হতে চায় ওয়ালটন। এ পুরস্কার তাদের উৎসাহিত করবে।

কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, দেশের এসএমই উদ্যোক্তারা অনেক পরিশ্রম করে। এসএমই উদ্যোক্তাদের বিকশিত হওয়ার পথে নানা বাধা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের পুরস্কার উদ্যোক্তাদের আরও উৎসাহিত করবে।

আফিয়া খানম ফিশারিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবা খানম সামান্য পুঁজি দিয়ে তার উঠে আসার গল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবারের সবাই প্রবাসী হলেও দেশকে ভালোবেসে তিনি থেকে গেছেন এবং নিজের উদ্যোগে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করছেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের পরিচিতি : বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের পথিকৃৎ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীকে মরণোত্তর আজীবন সম্মাননা জানিয়েছে আইএফআইসি-সমকাল। ১৯৮১ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরের বছর উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন আমজাদ খান চৌধুরী। ছোট একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দ্রুতই নিজ মেধা ও উদ্যমে এক বিশাল বাণিজ্য সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের প্রসারের পেছনে তার অবদান প্রবাদতুল্য। কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট, খাদ্য, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্সসহ নানা খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে প্রাণের পণ্য প্রতিবেশী ভারতেও বিশাল বাজার দখল করে। তিনি মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ছিলেন। তিনি আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিহ্যাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকারী সমিতির (বাপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও তিনি। বঞ্চিত শিশুদের প্রতিষ্ঠান ইউসেপের সভাপতি ছিলেন আমজাদ খান চৌধুরী। দেশের অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার এবং এ শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তিনি অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমধিক পরিচিত। সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার অবদান অনুকরণীয়।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, আইসিটি, হোম অ্যান্ড কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনস পণ্য উৎপাদনে ওয়ালটন পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ওয়ালটন জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের ফ্রিজের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্যের পাশাপাশি টেলিভিশন, এসিসহ হোম অ্যান্ড কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের বাজারের বড় অংশ এ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করা এ কোম্পানি ২০টির বেশি দেশে পণ্য রফতানি করছে।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামের মেসার্স আফিয়া খানম ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী রুবা খানম ২০১২ সালে মাত্র ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পরিশ্রম আর নিষ্ঠার মাধ্যমে মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আদর্শ মৎস্য খামার। ৬ একর জমিতে শিং, মাগুর ও রুই জাতীয় মাছ চাষ করে সিলেটের স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন। গেল বছর তার খামার থেকে ১৯ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে।

ফরচুন সুজ লিমিটেড এখন দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর শুরুটা এখনকার মতো ছিল না। ফিলা ব্র্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে ছোট একটি কারখানা সম্বল করে যাত্রা শুরু করেন মিজানুর রহমান। সেই ছোট কারখানায় বর্তমানে ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। কর্মীদের ৭০ ভাগই নারী।

কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ কাগজ দিয়ে কাপ, প্লেট, বাক্স তৈরির এই কোম্পানির বর্তমান বার্ষিক বিক্রি ১৪ কোটি টাকা। মাত্র তিনজন কর্মী ও আর ২০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ২০১০ সালে ১২০০ বর্গফুটের এক ছোট কারখানায় যাত্রা শুরু হয় কেপিসির।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ