দেশের চার স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৩ ১০:৫২:৪২ || আপডেট: ২০২০-০৩-২৩ ১০:৫৬:৪০

চীন থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্কর নভেল করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রবিবার ভারতে জনতা কারফিউ জারি ছিল। এছাড়া সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশও স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে কারফিউয়ের কারণে সাতক্ষীরার ভোমরা ও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রবিবার কোনো প্রকার পণ্য আমদানি-রফতানি হয়নি। আর কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর ও লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সাতক্ষিরায় প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের অধিকতর সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গতকাল সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টার জন্য জনতা কারফিউ জারি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে রবিবার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সকাল থেকেই আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কার্গো ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব সরকার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সে দেশের সরকার কারফিউ জারি করার কারণে এ বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হয়। তবে আগামীকাল (সোমবার) থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। আর আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ বন্দরে কর্মরত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক রবিবার  সারা দিন অলস সময় পার করেছেন।

ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিশ্বজিৎ সরকার জানান, এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের বিদেশী নাগরিকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে আগে যারা দুই দেশে প্রবেশ করেছেন তাদের আসা-যাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে কোনো বিদেশী যাত্রীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কাউকে ভারতে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, এই একদিনে সরকার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।

ভারতে জনতা কারফিউয়ের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়েও গতকাল দুই দেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বন্দরের ভেতরের কার্যক্রম ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার চালু ছিল।

হিলি স্থলবন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক অশিত স্যানাল জানান, বন্দর দিয়ে সকাল থেকে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাস, ভর্তি, ডেলিভারি দেয়াসহ সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি সেকেন্দার আলী জানান, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের অভ্যন্তরে আটকে পড়া যাত্রী পারাপার চালু রয়েছে। তবে নতুন করে কোনো পাসপোর্ট এন্ট্রির মাধ্যমে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলাধীন বুড়িমারী স্থলবন্দর ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। রবিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সহকারী কমিশনার (এসি) সোমেন কুমার চাকমা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে। তবে যেসব বাংলাদেশী নাগরিক পাসপোর্ট নিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানে অবস্থান করছেন, তাদের ফেরত নেয়া হচ্ছে। তেমনি বাংলাদেশেও এসব দেশের অবস্থানরত পাসপোর্টধারীরাও চলে যেতে পারবেন।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে এবার আমদানি-রফতানিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ভারত সরকার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করলে এ স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার এ স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জারি হয়।

বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের প্রকোপ যেন না বাড়ে, সেই লক্ষ্যে ভারত সরকার আমদানি-রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ কারণে বিবিরবাজার বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ যখন নির্দেশ দেবে তখনই বন্দরের কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ