এখন অর্থনীতির বোঝা হবে করোনা সংকট

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৫ ১৮:৫০:৩২ || আপডেট: ২০২০-০৩-২৫ ১৮:৫০:৩২

চীন ছাড়িয়ে পুরো বিশ্ব এখন নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে আক্রান্ত। ধনী-দরিদ্র, উন্নত-উন্নয়নশীল, উত্তর-দক্ষিণ কোনো বাধাই মানছে না প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। ১০০ কোটির বেশি মানুষ কার্যত ঘরবন্দি। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। মহামন্দার ঘণ্টাধ্বনি বাজছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। পরিস্থিতি হয়তো সহসাই বদলাবে না। বরং নভেল করোনাভাইরাসের এ বৈশ্বিক সংকট সামনের বছরগুলোতে অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে থাকবে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

করোনা সংকটকে বর্তমান শতকের ‘সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাঞ্জেল গুরিয়া। এক খোলা চিঠিতে এ বিষয়ে তিনি লেখেন, করোনা সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সবাইকে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সামনের বছরগুলোতেও সমাজ ও অর্থনীতির বোঝা হয়ে থাকবে এ সংকট।

আমরা যতটুকু ভেবেছিলাম, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর করোনা সংকট তার চেয়েও গভীর প্রভাব ফেলেছে—এমন মন্তব্য ওইসিডি প্রধানের। তার মতে, এ সংকট বিভিন্ন দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির করে দিয়েছে। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মুখ থুবড়ে পড়েছে, কমেছে ভোগ। মানুষ জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তৈরি হয়েছে আর্থিক অনিরাপত্তার সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে আঘাত হেনেছে এ মহামারী। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

তিনি লেখেন, যদি তিন মাসের জন্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন তবে ওইসিডির ৩৬ সদস্য দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়বেন। হুমকিতে পড়বে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন ওইসিডি প্রধান। অ্যাঞ্জেল গুরিয়ার মতে, করোনা-পরবর্তী স্বাস্থ্যগত ও আর্থিক সংকট মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নিতে হবে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। দেশে দেশে মানুষের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে কাজ করতে হবে।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেই নভেল করোনাভাইরাসের সূতিকাগার। প্রদেশের রাজধানী উহানেই লাখ খানেকের বেশি মানুষ কভিক-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন হাজারের বেশি মানুষ। টানা দুই মাস লকডাউনে ছিল উহানসহ পুরো প্রদেশ। মানুষের ঘর থেকে বেরোনো নিষিদ্ধ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ৮ এপ্রিল উহানে লকডাউন উঠে যাচ্ছে।

তবে চীন ধাক্কা সামলিয়ে উঠলেও করুণ দশা ইউরোপ-আমেরিকার। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—ইউরোপের এ চারটি দেশ এখন পুরোপুরি লকডাউন। চীনের পর কভিক-১৯-এর কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে মহাদেশটি। নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্র এখন করোনাভাইরাসের পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হওয়ার পথে। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ও সঠিক সময়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া।

বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে এখন একটাই স্লোগান—ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। দেশে দেশে ১০০ কোটির বেশি মানুষ ঘরবন্দি রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ শতাংশ জনগণ লকডাউনের আওতায় রয়েছেন। এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে টোকিও অলিম্পিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত ১৯০টি দেশ ও অঞ্চলে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮১ জন। কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৫২। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৭। আক্রান্ত ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৯। তবে আক্রান্তদের ৩০ শতাংশই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। সূত্র: এবিসি নিউজ, বিবিসি ও আল জাজিরা অবলম্বনে
সানবিডি/ঢাকা/এসএস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ