নতুন বাজেটে নগদ সহায়তা চায় পোশাক খাত

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৫-২০ ০৮:৫৮:০০ || আপডেট: ২০২০-০৫-২০ ০৮:৫৮:০০

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনার কারণে আগামী এক বছরে বন্ধ হয়ে যাবে বহু শিল্প-কারখানা, হারিয়ে যাবেন অনেক উদ্যোক্তা। করোনা আক্রান্ত বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য রফতানিমুখী শিল্পের জন্য এবারের বাজেটে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজন বিশেষ নীতিসহায়তা।এর পাশাপাশি প্রয়োজন নগদ সহায়তা। এছাড়া বিদ্যমান উেস কর হার আরো পাঁচ বছর পর্যন্ত অব্যাহতও রাখা প্রয়োজন। আসন্ন বাজেট প্রস্তাবনায় এসব দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

এ ব্যাপারে বিকেএমইএ বলছে, দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে রফতানির বিপরীতে অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য রফতানি মূল্যের ওপর সরাসরি ১০ শতাংশ এবং বিদেশ থেকে আমদানীকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে রফতানির বিপরীতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা, এটা ছাড়া বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য এ মুহূর্তে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

অন্তত ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়ে আসছে বিশ্ববাজারের চাহিদা, ফলে মূল্য কমে আসবে পণ্যের। যেখানে টিকে থাকা কঠিন হবে এমন মত পোষণ করে বাজেট প্রস্তাবনায় বিকেএমইএ বলেছে, বিশ্ব মহামারী করোনার কারণে আগামী এক বছরে বন্ধ হয়ে যাবে বহু শিল্প-কারখানা, হারিয়ে যাবেন অনেক উদ্যোক্তা। তাদের নিরাপদ প্রস্থানের দিকনির্দেশনা থাকতে হবে এবারের বাজেটে। বরাদ্দ রাখতে হবে একটা টাকার অংক। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।

প্রত্যাবাসিত রফতানি মূল্যের ওপর এআইটি এবং তা চূড়ান্ত আয়কর হিসেবে দশমিক ২৫ শতাংশ আগামী এক বছর বহাল রাখা। নগদ সহায়তার ওপর ৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বাজেট প্রস্তাবে ভ্যাট পলিসিতে রফতানি মুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসে শূন্য হারে রিটার্ন দাখিল করার যুক্তিসংগত কোনো কারণ দেখছে না বলে উল্লেখ করেছে বিকেএমইএ।

এদিকে বিজিএমইএ তাদের প্রস্তাবে রফতানিসংশ্লিষ্ট স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফসহ রিটার্ন দাখিল করা থেকে অব্যাহতি প্রদান করার দাবি জানিয়েছে। আবার বিদ্যমান উেস কর দশমিক ২৫ শতাংশ রাখা এবং তা আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। রফতানির বিপরীত নগদ সহায়তার ওপর আয়কর কর্তনের হার ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে শূন্য শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ প্রস্তাবনায় আরও বলেছে, রফতানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য করপোরেট কর হার ১২ শতাংশ এবং গ্রীণ কারখানার জন্য ১০ শতাংশর আগামী ৫ বছর পর্যন্ত বলবৎ রাখা প্রয়োজন। শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে পোশাক শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত রেয়াতি হারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল র্যাকিং আমদানি করার অনুমতি চেয়েছে বিজিএমইএ। ইন্ডাস্ট্রিয়াল থার্মোস্ট্যাট ডি-হিউমিডিফাইয়ার যন্ত্রটি শুল্কমুক্ত আমদানি অনুমোদনও চেয়েছে সংগঠনটি।

শতভাগ রফতানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য কাটিং মেশিনের সঙ্গে কাটিং টেবিল একই এসআরওতে আমদানি প্রয়োজন বলে মনে করছে বিজিএমইএ। রফতানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্পেও আমদানির ক্ষেত্রে এইচএসকোড সংক্রান্ত জটিলতায় পণ্য চালান খালাসে সৃষ্ট সমস্যা দূর করার জন্য প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন। কারখানাকে নিরাপদ ঝুকিমুক্ত ও পরিবেশ বান্ধব করে গড়ে তোলা এবং ব্যয় সাশ্রয় করার জন্য প্রয়োজনীয় কতিপয় পণ্যের শুল্ক ভ্যাট ও অগ্রিম করসহ অন্যান্য সকল কর মুক্তভাবে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন বলে এনবিআরকে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ