ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ছোবলে যশোরে মৃত বেড়ে ১২

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ১১:৩৫:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৫-২২ ১১:৩৫:০৩

বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যশোরে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। এই তাণ্ডবে যশোরে গাছচাপা, ঘর ভেঙে ও দেয়ালচাপায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ তে দাঁড়িয়েছে। বুধবার রাতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গাছপালা ভেঙে ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

ভয়াবহ ঝড়ের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা ফোন নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় হতাহতের তথ্য প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের কাছে দেরিতে এসে পৌঁছাচ্ছে। ঝড়ে এই জেলায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসন ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে পুলিশের তথ্যে বাকি ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্র মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে গোটা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ গাছপালা, ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চৌগাছায় গাছচাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- চৌগাছা পৌরসভার হুদো চৌগাছা এলাকার ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম (৪৫) ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩)। ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে এ দুজন নিহত হন। আহত হন চায়না বেগমের ছেলে আলামিন (২২)। ঝড়ের সময় তারা ঘরে ছিলেন।

এছাড়া গাছচাপা পড়ে শার্শা উপজেলার মালোপাড়ার সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, গোগা পশ্চিমপাড়ার শাহজাহানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০) ও বাগআঁচড়া জামতলা এলাকার আব্দুল গফুর পলাশের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫) এবং বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট বুদোপাড়া এলাকার সাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি খাতুন (৪৫) নিহত হয়েছেন।

আর বাঘারপাড়ার নিহত গৃহবধূ নামাজ পড়ার পর কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। ঝড়ে একটি আমগাছের ডাল টিনের ঘরের চালার ওপর ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শার্শায় নিহতদের মধ্যে মুক্তার আলী ও গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস নিজেদের ঘরের মধ্যেই গাছ ভেঙে পড়লে মারা যান। আর ময়না খাতুন স্বামীর সাথে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার সময় গাছ পড়ে মারা যান। তবে স্বামী বেঁচে যান।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এই ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী মণিরামপুর উপজেলায় আরও পাঁচজন ও শার্শায় আরও একজনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের খোকন দাস (৭০), তার স্ত্রী বিজন দাস (৬০), একই এলাকার ওয়াজেদ আলী (৫০), তার ছেলে ইসা (১৫) এবং আছিয়া বেগম (৭০)। এছাড়া শার্শা উপজেলার মহিপুড়া গ্রামের মিজানুর রহমান (৬০) নামে আরও একজনের মৃত্যু সংবাদ দিয়েছে পুলিশ।

ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স অফিসার (ডিআইও-১) এম মসিউর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে মণিরামপুরে মৃত্যুর তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে এখনো পৌঁছায়নি। রাতে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ জানান, মণিরামপুরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এ সময় জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিভিন্ন এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সবজি, আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়ে গেছে বিধায় ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গৃহ বা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কাজ চলছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ