বিজিবিতে চার অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর জলযান

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৩ ১৩:১৬:২১ || আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ১৩:১৬:২১

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এ সংযোজিত হয়েছে চারটি অত্যাধুনিক দ্রুত গতিসম্পন্ন ইন্টারসেপ্টর জলযান।

সিলভারক্রাফট-৪০ মডেলের রিইনফোর্সড পলিমারের তৈরি ৪০ ফুট দীর্ঘ ৭৫০ হর্সপাওয়ারের তিন ইঞ্জিনের প্রতিটি জলযান ৩৩ জন সৈন্য ধারণে সক্ষম। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ নটিক্যাল মাইল বা ১০১ কিলোমিটার। জলযানগুলো যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচলে সক্ষম। এতে সংযোজিত রয়েছে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান সংযুক্তির সুবিধাসহ উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন সিস্টেম (আরএডিএআর), চতুর্থ প্রজন্মের জিপিএস (জিপিএস), আধুনিক সোনার সিস্টেমসহ অনেক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। জলযানগুলো নিজস্ব অবস্থান থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে শত্রু জলযানের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। এতে দুইজন মুমূর্ষু রোগী পরিবহনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশের চার হাজার ১৮৪ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ১৮০ কিলোমিটার নৌ সীমান্ত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ৬৩ কিলোমিটার নৌ সীমান্ত বিজিবি প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং টহল করে। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থলভাগের সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত হয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় সীমান্তবর্তী নাফ নদী। আন্তঃদেশীয় অপরাধীদের নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন, মানবপাচার, চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদক পাচারে চোরাকারবারিদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি এবং চলমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্ত কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অপরদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাতক্ষীরার নীলডুমুরের সুন্দরবন অংশের গহীন অরণ্যের বাংলাদেশ-ভারত জলসীমান্ত এলাকায়ও অনুরূপ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।

বাংলাদেশের নৌ সীমান্তে বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তের সেন্টমার্টিনস দ্বীপ, নাফ নদী এবং ভারত সীমান্তের নীলডুমুরে ও সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের জলসীমান্তে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকপাচার রোধ ও চোরাচালান বন্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত, অধিক সৈন্য বহনে সক্ষম দ্রুতগতির এই জলযান বিজিবি’র সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে।

তাই, সেন্টমার্টিনস দ্বীপের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করতে বিজিবিতে সংযোজিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ জলযানগুলো দেশের সীমান্ত এলাকার নদী পথগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ করে সীমান্ত অপরাধ দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, ইয়াবাসহ মাদক পাচার ও চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ