গোল্ডম্যান স্যাকসের পর্যবেক্ষণ

স্বর্ণের আউন্স ২ হাজার ডলারে উঠতে পারে

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৬-২২ ২০:০১:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৬-২২ ২০:০৪:৩৯

 

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী অর্থনীতির গতি শ্লথ করে ভয়াবহ রকমের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। বাড়তির দিকে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। করোনা মহামারী সহসাই দূর হওয়ার কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ এখনো দেখা মেলেনি। বরং সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইন্দো-চীন সীমান্ত সংঘাত, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চিত পরিস্থিতি বহাল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের দাম বর্তমানের তুলনায় আরো বাড়তে পারে। এমনকি এক বছরের মধ্যে স্বর্ণের আউন্স ২ হাজার ডলারে উন্নীত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স ও মাইনিংডটকম।

স্বর্ণের সম্ভাব্য বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রকাশ করে থাকে গোল্ডম্যান স্যাকস। বিশেষত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় কোনো ঘটনা কিংবা পরিবর্তনের আলোকে স্বর্ণের বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ বিনিয়োগকারীরা বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গোল্ডম্যান স্যাকস স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ—তিন মেয়াদে স্বর্ণের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দামের প্রাক্কলন করেছে। বলা হয়েছে, স্বল্প মেয়াদে বা পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। মধ্যমেয়াদে বা ছয় মাসের মধ্যে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৯০০ ডলার হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদ বা এক বছরের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠতে পারে ২ হাজার ডলারে।

এর আগে অপর এক প্রতিবেদনে তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছিল গোল্ডম্যান স্যাকস। আর বলা হয়েছিল, ছয় মাস ও এক বছরের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম যথাক্রমে ১ হাজার ৬৫০ ডলার ও ১ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭৪০ ডলারের ওপরে রয়েছে স্বর্ণের দাম।

চলতি বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজার তুলনামূলক চাঙ্গা রয়েছে। এর প্রধান কারণ নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক সংক্রমণ। জানুয়ারির শুরুর দিকে চীনে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে আসে। ধস নামে আর্থিক কার্যক্রমে। এরপর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র করোনা মহামারীতে বড় ধরনের ধাক্কা খায়। রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এসব দেশের অর্থনীতিও গতি হারায়। এখন ব্রাজিল, রাশিয়া এবং ভারত-বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও ভারত স্বর্ণের শীর্ষ দুই ভোক্তা দেশ। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে টানা লকডাউনে দুই দেশেই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদায় পতন ঘটেছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম কমার কথা। তবে বিশ্ব অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে আসায় শেয়ার ও মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে তুলনামূলক নিরাপদ বিবেচনা করে তারা স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ফলে বাড়তির দিকে রয়েছে স্বর্ণের দাম।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে বরাবরই প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এশিয়ার কয়েকটি দেশের সীমান্ত। লাদাখে সংঘাতে জড়িয়ে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় দুই দেশই লাদাখ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ বাড়িয়েছে। বিরোধ দেখা দিয়েছে ভারত ও নেপাল সীমান্তেও। ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়িয়ে হামলার হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন।

একদিকে চীন-ভারত-নেপাল, অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া—ভূরাজনৈতিক এসব উত্তেজনা আগামী দিনগুলোয় অস্থিতিশীল বিশ্ব রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর প্রভাব থেকে বাদ যাবে না অর্থনীতি। করোনা সংকটের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। কেননা যেকোনো সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরো গভীর খাদে প্রবেশ করবে। মন্দা প্রলম্বিত হবে। অস্থিরতা বাড়বে শেয়ার ও মুদ্রাবাজারে। আর তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিবেচনা করে স্বর্ণের প্রতি আরো ঝুঁকে পড়বেন। মূলত এ কারণেই আগামী দিনগুলোয় স্বর্ণের বাজার বর্তমানের তুলনায় আরো চাঙ্গা হতে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ