বীজে মুনাফা কম করার অনুরোধ কৃষিমন্ত্রীর

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৩ ০৮:৪৬:২৯ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৩ ০৮:৪৬:২৯

এ বছর সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোকে কৃষকের সেবায় এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। চলতি বছর কৃষকের ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক সচ্ছলতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বীজে কম মুনাফা করারও অনুরোধ করেছেন তিনি।সোমবার সকালে সরকারি বাসভবন থেকে ‘বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন, আমদানি, সরবরাহ ও বিপণন নিরবচ্ছিন্ন রাখা’ বিষয়ে অনলাইন সভায় তিনি এ অনুরোধ জানান।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান অপু, কমলারঞ্জন দাশ, আশ্রাফ উদ্দিন আহমেদ, মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মন্ডল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. এসএম নাজমুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভাণ্ডারী, সুপ্রিম সিড, এসিআই, এমএম ইস্পাহানি, ব্র্যাক, ইউনাইটেড সিড, মল্লিকা সিড, লাল তীর সিড, সিনজেনটা, বায়ার ক্রপস, পারটেক্স এগ্রো, মেটাল সিড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অসহনীয় দুর্যোগের মাঝেও লক্ষ্যমাত্রার অধিক বোরো ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে আউশ ধানবীজ, আমন ধানবীজ ও পাটবীজ কৃষকের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে আউশ ধান আবাদ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। কোনো প্রাকৃৃতিক দুর্যোগ না হলে আউশেও বোরোর মতো ভালো ফলন পাওয়া যাবে। শুরুর দিকে মৌসুমি ফল ও শাকসবজি বাজারজাতে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন তেমন সমস্যা নেই। মোটামুটি ভালো দামেই চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন। পাশাপাশি, আমসহ মৌসুমি ফলেরও ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক।

করোনার কারণে দেশের এ ক্রান্তিকালে আসন্ন আমন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমন ধান আবাদের জমি বোরোর চেয়ে বেশি হলেও উৎপাদন অনেক কম। একমাত্র উচ্চফলনশীল জাতের গুণগতমানসম্পন্ন বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। আমন ও রবি মৌসুম সামনে, সেখানে অনেক শাকসবজি, ভুট্টা, ডাল, তৈলসহ উফশী ধান ও হাইব্রিড ধানবীজের প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্য স্থিতিশীল খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনের জন্য গুণগতমানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে কৃষি মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, করোনা প্রকোপের শুরু থেকেই কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলো এবং সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে সারা বিশ্বে খাদ্য সংকটের যে সম্ভাবনা রয়েছে, আশা করা যায়, বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়বে না।

সভায় জানানো হয়, এবারই সরকার প্রথম বীজে ভর্তুকি প্রদান করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় হতে বিএডিসির ১৯ হাজার ৫০০ টন আমন ধানবীজ চাষী পর্যায়ে বিক্রির জন্য ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। বিএডিসি তাদের ঘোষিত নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে উফশী আমন ধানবীজ ও হাইব্রিডের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা কমে চাষী পর্যায়ে বীজ বিক্রি করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ