প্লাস্টিক-লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে হচ্ছে টেকনোলজি সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২০-০৭-২১ ১৯:৫২:১৯ || আপডেট: ২০২০-০৭-২১ ১৯:৫২:১৯

দেশের প্লাস্টিক পণ্য আর হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) খাতের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আর এ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্য দুটির ভূমিকা বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস (ইসি৪জে) প্রকল্পের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি, কালিয়াকৈর, গাজীপুরে প্রায় পাঁচ একর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের দুটি অত্যাধুনিক টেকনোলজি সেন্টার।

আজ (মঙ্গলবার)বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত দুটি লীজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইসি৪জে প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক মো. ওবায়দুল আজম এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিচালক ও যুগ্মসচিব এ এন এম সফিকুল ইসলাম চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।

ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুমের মাধ্যমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা, সালমান ফজলুর রহমান, এমপি, এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত বিশ্বমানের এসব টেকনোলজি সেন্টারসমুহে হালকা প্রকৌশল ও প্লাস্টিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের শিল্প সমূহের জন্য লাগসই প্রযুক্তিগত সেবা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও ব্যবসায়িক পরামর্শ সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পসমূহকে রপ্তানি সক্ষম করে তোলা হবে। স্টেকহোল্ডারদের জন্য সেন্টারগুলোতে থ্রি-ডি প্রিন্টিং ও ডিজাইন সেন্টার, টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন ল্যাব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন সেন্টার, টেকনোলজি ইনোভেশন ও ইনকিউবেশন সেন্টার, ওয়ার্কশপ, মেশিনশপ, লাইব্রেরী ভবন, বিজনেস সেন্টার ইত্যাদি সুবিধা থাকবে। এছাড়াও, বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি, কালিয়াকৈর, গাজীপুরে নির্মিতব্য টেকনোলজি সেন্টারে ইলেকট্রনিক্স ও আইটি ভিত্তিক ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প সমূহকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রী জনাব টিপু মুনশি বলেন, বর্তমান সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও বাণিজ্য নীতি ২০১৮-২১ এ রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্রকরণে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ‘‘এক্সপোর্ট কম্পেটেটিভনেস ফর জবস” শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চামড়া, চামড়া-জাত পণ্য, ফুটওয়ার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্লাস্টিক প্রোডাক্ট; এর চারটি খাতের মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণসহ পণ্য সমূহের রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিশ্বমানের এসব টেকনোলজি সেন্টারসমুহ সংশ্লিষ্ট খাতসমূহের বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করি।

“প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য অর্জন এ প্রকল্পের সরাসরি অভীষ্ট। পণ্যের গুণগত উৎকর্ষতা অর্জন, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চাহিদা সম্পন্ন যুগোপযোগী পণ্য তৈরি, শ্রমিক-মালিক ও কারখানার সামাজিক ও পরিবেশগত মান উন্নয়নে কাজ করছে এ প্রকল্প”, বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশে এই মুহূর্তে ৫টি হাইটেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি’তে ৩৫৫ একর জমিতে বিভিন্ন কোম্পানি কাজ করছে। এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত আট বছরে সরকার দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাই-টেক পার্ক স্থাপনে ৪৯৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বেসরকারি খাত থেকে। এর বিপরীতে ২০১৬ সাল থেকেই হাই-টেক পার্ক থেকে আয় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৫০ কোটির টাকার বেশি আয় করেছে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ১৩ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ১১০টিরও বেশি স্টার্টআপ ও বড় কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করেছে। আশা করছি, ২০২৩ সালের মধ্যে এখানে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রামে সফটওয়্যার টেকনলোজি পার্ক, শেখ হাসিনা ইন্সটিটিউট অব ফন্টিয়ার টেকনলোজি এবং ১১টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম বলেন, দেশে যে কোনো সময়ের তুলনায় সব চেয়ে ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ বিরাজ করছে। আর বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে আইটি সেক্টর। দেশের হাই-টেক পার্কগুলোতে তাই বিনিয়োগে যেমন সীমিত ঝুকি তেমনি এখান থেকে অধিক মুনাফাও করা সম্ভব। বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমানে আমরা ১৪টি প্রনোদনা সুবিধা দিচ্ছি।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এন এম জিয়াউল আলম, সিনিয়র সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, পবন চৌধুরী, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), মোঃ ওবায়দুল আজম, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ