২০২৫ সালে এক কোটি কম্প্রেসার উৎপাদনের লক্ষ্য ওয়ালটনের

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৭-২১ ০৯:০১:৫৪ || আপডেট: ২০২০-০৭-২১ ০৯:০১:৫৪

দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আর দক্ষতার সমন্বয়ে বিশ্বমানের কম্প্রেসার ও এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে বাড়ছে কম্প্রেসারসহ ওয়ালটনের প্রযুক্তি পণ্যের কদর। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কম্প্রেসারের সর্বোচ্চ গুণগতমান ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতেও পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক এক কোটি কম্প্রেসার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি ইউরেশিয়া অঞ্চলের বিজনেস হাব হিসেবে খ্যাত তুরস্কে কম্প্রেসার রফতানি শুরু করেছে ওয়ালটন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্কের খ্যাতনামা প্রযুক্তিপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান কার্গির সঙ্গে কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর ফলে তুরস্কসহ সমগ্র ইউরোপে ওয়ালটন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

তুরস্ক ছাড়া ইরাক, স্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়ালটন কম্প্রেসার এবং যন্ত্রাংশ রফতানি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কম্প্রেসার কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় চার মিলিয়ন (৪০ কোটি)। ২০২৫ সালের মধ্যে এ উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মিলিয়নে, অর্থাৎ এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা ওয়ালটনের। এতে করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে আরো বেশি কম্প্রেসার রফতানি করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে ওয়ালটন কম্প্রেসারের সিইও প্রকৌশলী মীর মুজাহেদীন ইসলাম জানান, নিজস্ব কারখানায় জার্মান প্রযুক্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে ‘সাইলেন্ট ও ডিউর্যাবল’ কম্প্রেসার তৈরি করছে ওয়ালটন। আমাদের কারখানায় রয়েছে স্টিল, জিংক, অ্যালুমিনিয়াম ও কপার কাস্টিং, ফাউন্ড্রি, মেটাল প্রসেসিং এবং গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ। আছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেস্টিং যন্ত্রপাতি ও ল্যাব। বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নতুন আরেকটি সিরিজের কম্প্রেসার উৎপাদনে কাজও শুরু করা হয়েছে। নতুন এ সিরিজটির উৎপাদন শুরুর পর রফতানির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

এ ব্যাপারে ওয়ালটন জানিয়েছে, পথচলার শুরু থেকেই কম্প্রেসার এবং এর নানা যন্ত্রাংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি জোরদার করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। এর সুফল পেতেও শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নিজস্ব কারখানা চালুর পর থেকেই জার্মানিভিত্তিক বিশ্বের একটি খ্যাতনামা কম্প্রেসার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ যন্ত্রাংশ নিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন হিসেবে দেখছে দেশের প্রযুক্তি বাজারের শীর্ষ এ প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য বলছে, ওয়ালটন দেশের প্রথম, এশিয়ার অষ্টম এবং বিশ্বের ১৫তম দেশ হিসেবে কম্প্রেসার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে সর্বাধুনিক কম্প্রেসার ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট গড়ে তোলে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে কাজ করছেন দেশী-বিদেশী দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা। পণ্যের গুণগতমানের বিষয়টি মাথায় রেখে শতাধিক প্রকৌশলীকে দেয়া হয়েছে ইউরোপ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ।

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এ কম্প্রেসারের দুটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একটি ফ্রিজের কম্প্রেসার, অন্যটি এসির। প্রতিষ্ঠানটি ফ্রিজের ১২ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। এসির কম্প্রেসারে এ সময়সীমা ১০ বছরের। গ্রাহকদের সুবিধার কথা ভেবে ওয়ালটন ফ্রিজের কম্প্রেসারে দুই বছরের বেশি গ্যারান্টি দিচ্ছে। আগে ফ্রিজের কম্প্রেসারে ১০ বছরের গ্যারান্টি সুবিধাটি ছিল। ফ্রিজের কম্প্রেসারে দীর্ঘস্থায়ী গ্যারান্টির বিষয়টি ওয়ালটন ফ্রিজের প্রতি গ্রাহকের আস্থা আরো সুসংহত হওয়ার প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠানটির।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, কম্প্রেসার হচ্ছে রেফ্রিজারেটরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্রাংশ। ফ্রিজের স্থায়িত্বের বিষয়টি কম্প্রেসারের সর্বোচ্চ গুণগতমানের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে ওয়ালটন ফ্রিজে ব্যবহার করা হচ্ছে গুণগতমানের কম্প্রেসার। আগের তুলনায় কম্প্রেসারের অ্যাকুইরেসি এবং কুলিং সিস্টেমে বেশি পারফেকশন এনেছে ওয়ালটন। কম্প্রেসারে বিল্ট-ইন অটোমেটিক ভোল্টেজ প্রটেকশন সিস্টেম থাকায় বিদ্যুৎ প্রবাহের তারতম্যেও তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না।

সার্বিক বিষয়ে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ বলেন, ওয়ালটনের টার্গেট বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কম্প্রেসার রফতানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, রাশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতে ওয়ালটন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ব্যাপকভাবে কাজ চলছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে রফতানি আদেশ পাচ্ছে ওয়ালটন।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে ওয়ালটন পণ্য। ওয়ালটন পণ্যের ডিজাইন, উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বিপণন নিয়ে কাজ করছেন ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলীরা। ফলে ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক টেস্টিং ল্যাব ‘এসজিএস’-এর কাছ থেকে অর্জন করেছে সিই, আরওএইচএস, ইএমসি ইত্যাদি সনদ। যেগুলো ইউরোপের বাজারে পণ্য রফতানির জন্য অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সানবিডি/এনজে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ