কাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব!

:: মুফতী মাহমুদ হাসান। || প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৩ ০৯:৩৭:৫৫ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৩ ০৯:৩৭:৫৫

কুরবানী একটি স্বতঃসিদ্ধ ওয়াজিব ইবাদত।আর ইবাদতের ক্ষেত্রে ধর্মীয় জ্ঞান অনস্বীকার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন আর প্রণয়ন করেছেন বিধি-বিধান। তাই আমাদের জানা অনস্বীকার্য, কখন? কোন বিধান? আমাদের উপর অর্পিত হচ্ছে এবং তা পালনের নিয়মাবলী কি??

তাই আসুন আমরা জেনে নেই কুরবানী কখন কার উপর ওয়াজিব হয়!

যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব:
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত ☑️১.মুসলিম হওয়া চায় পুরুষ হোক বা মহিলা হোক।☑️২. আজাদ হওয়া অর্থাৎ গোলাম-দাস না হওয়া বর্তমান। সবাই আযাদ।☑️৩. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া অর্থাৎ পাগল না হওয়া।☑️৪. বালেগ হওয়া নাবালেগ না হওয়া।☑️৫. মুকিম হওয়া মুসাফির না হওয়া।☑️ ৬.নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কর্জ বাদ দিয়ে নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া।

فتجب علي حر مسلم مقيم)بمصري او قريه او بادية عيني.فلا تجب علي حاجة مسافر موسر يسار الفكرة عن نفسه لا عن طفله علي الظواهر الفتاوي الشامي ٩/٤٥٩.البداءع الصناء ٥/٢٩٣ع

১.মাসয়ালা:

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক নেসাবের মালিক মুসলিম নর-নারীর উপর কুরবানী ওয়াজিব৷ অর্থাৎ যে ব্যক্তি ১০ই যিলহাজ্ব ফযর থেকে ১২ই যিলহাজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে৷
(সুনানে আবু দাউদ ২৭৮৮ হাদীস৷ সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১২৪ হাদীস৷ আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫ পৃষ্ঠা৷)

২.মাসয়ালা:

নেসাবের মেয়াদ:

কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিন থাকলে এমনকি ১২ তারিখ সূর্যাস্তের কিছু আগে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে গেলেও কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২)

৩.মাসয়ালা:

যার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয় সে কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করলে সেই পশু কোরবানি করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়।

৪.মাসয়ালা:

কোন মাকসুদের জন্য কোরবানির মান্নাত করলে সেই মাকসুদ পূর্ণ হলে তার উপর (গরীব হোক বা ধনী) কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

৫.মাসয়ালা:

একান্নভুক্ত পরিবারের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পাওয়া গেলে অর্থাৎ তাদের কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তাদের প্রত্যেকের উপর ভিন্ন ভিন্ন কুরবানী ওয়াজিব।

পরিবারের যত সদস্যের উপর কুরবানী ওয়াজিব তাদের প্রত্যেককেই একটি করে পশু কুরবানী করতে হবে কিংবা বড় পশুতে পৃথক পৃথক অংশ দিতে হবে। একটি কুরবানী সকলের জন্য যথেষ্ট হবে না।

৬. মাসআলাঃ

কুরবানীর নেসাব:

কুরবানীর নেসাব হলো-

☑️১৷ সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি স্বর্ণ৷
☑️২৷ সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রূপা৷
☑️৩৷ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার যে কোন একটির সমমূল্য পরিমান টাকা৷
☑️৪৷ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্য পরিমাণ ব্যবসায়ী পন্য৷
☑️৫৷ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্য পরিমাণ প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ৷
উল্লেখিত পাঁচটি সম্পদের প্রত্যেকটিই পরিপূর্ণ নেসাব৷ তবে কারো কাছে যদি উক্ত সম্পদ সমূহের প্রত্যেকটির কিছু করে অংশ থাকে যেমন কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা, কিছু টাকা, কিছু ব্যবসায়ী পন্য এবং কিছু গচ্ছিত সম্পদ, তবে সবগুলো মিলিয়ে যদি রূপার নেসাব পরিমান হয় তাহলে সে নেসাবের মালিক হিসেবে গন্য হবে৷

যেমন ধরা যাক, বর্তমান বাজারে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য ৬৫,০০০ টাকা। এখন কারো নিকট ২ তোলা/ভরি সোনা রয়েছে যার বিক্রয়মূল্য ৮০,০০০ টাকা। আর উক্ত সোনার সাথে তার নিকট ১ টাকা রয়েছে। উক্ত ১ টাকা থাকার কারনে তার নিসাব সোনা থেকে রুপার দিকে পরিবর্তন হবে। কেননা তার মালিকানায় দুই প্রকার সম্পদ জমা হয়েছে । আর এই দুই প্রকার সম্পদের মুল্যমান যেহেতু সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য তথা ৬৫,০০০ টাকা থেকে বেশি তাই সে নেসাবের মালিক হবে। অর্থাৎ যখন উপরে উল্লেখিত পাঁচটি সম্পদের কোন একটির সাথে আরেকটি সম্পদ মিলানো হবে তখন ঐ মিলানো সম্পদটি পরিমানে যত কমই হোক না কেন (এক আনা সোনা বা রুপা অথবা ১ টাকা বা তার সমপরিমান ব্যবসার মাল) তা ধর্তব্য হবে। এবং তার নিসাব রুপা দ্বারা গণ্য করা হবে। অর্থাৎ যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য পরিমান হয় তবে সে নেসাবে মালিক গন্য হবে।

(তাফসীরে কাবীর ৩২/১৩২ পৃষ্ঠা৷ তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৫/৩১৬ পৃষ্ঠা৷ সহীহু মুসলিম ১/৩১৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/৩৪৮ পৃষ্ঠা৷)

৭.মাসআলাঃ
শুধু স্বর্ণ ব্যতীত অন্য সকল সূরতেই রূপার নেসাব ধর্তব্য হবে৷ যেমন কারো কাছে দুই ভরি স্বর্ণ ও ১-টাকা রয়েছে৷ শুধু ১-টাকা থাকার কারনে তার নেসাব সোনা থেকে রূপার দিকে পরিবর্তন হবে। কেননা তার মালিকানায় দুই প্রকার সম্পদ জমা হয়েছে। আর এই দুই প্রকার সম্পদের মুল্যমান যেহেতু সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্য থেকে বেশী, তাই সে নেসাবের মালিক বলে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে উসমানী ৩/৬৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৯৯ পৃষ্ঠা৷)

৮. মাসআলাঃ
টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসেনা এমন জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়ীক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য হবে। (আদ দুররুল মুখতার ৯/৫৫২ পৃষ্ঠা৷)

৯.মাসআলাঃ
কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরী নয়! বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৯৬ পৃষ্ঠা৷)

১০.মাসআলাঃ

হাজতে আছলিয়ার পরিচয়:
হাজাতে আছলিয়ার
পরিচয় হলো- মানুষের জীবন-যাপনে যা অত্যাবশ্যকীয় এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে যা ব্যবহারে আসে, তাই হাজাতে আছলিয়া বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ৷ আর ব্যক্তি বিশেষে হাজাতে আসলিয়া বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১১.মাসআলাঃ
বসতবাড়ি, ঘরের আসবাবপত্র, পরিধানের কাপড়, ব্যবহারের গাড়ি, রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহৃত হাড়ি-পাতিল, ডেগ ও বাসনপত্র ইত্যাদি হাজাতে আছলিয়া তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদের মধ্যে গন্য হবে৷ তবে বড় বড় ডেগ, বড় বড় বিছানা ইত্যাদি যা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয়না বরং দু-এক বছরে কখনও অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয়, তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷
(ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১২.মাসআলাঃ
ঘরে সাজিয়ে রাখা আসবাবপত্র যেমন কাপ-প্রিচ, জগ-গ্লাশ, চেয়ার-টেবিল ইত্যাদি যা সারা বছরে একবারও ব্যবহার করা হয়না, তাও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১৩.মাসআলাঃ
ঘরের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা মহিলাদের শাড়ী, কাপড় ইত্যাদি যা বছরে একবারও ব্যবহার করা হয়না, তাও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১৪. মাসআলাঃ
কারো ৫০ বিঘা জায়গা রয়েছে। এতে চাষাবাদি করে যে ফসল হয়, সবগুলোই তার সংসারে খরচে হয়ে যায়। তাহলে পুরো ৫০ বিঘা জমি তার জন্য হাজাতে আছলিয়া তথা নিত্যপ্রয়োজনীয়। পক্ষান্তরে কারো ১০ বিঘা জায়গা রয়েছে। যার ৮ বিঘার ফসলে তার সংসার চলে যায়৷ তাহলে ২ বিঘা জমি তার জন্য প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ৷ যা নেসাবের মধ্যে গন্য হবে৷ (আহসানুল ফতোয়া ৭/৫০৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷)

১৫.মাসআলাঃ
কারো ১০-টি বাড়ি রয়েছে। যার ভাড়া দ্বারা সে জীবিকা নির্বাহ করে। সংসার বড় হবার কারনে সকল টাকাই ব্যয় হয়ে যায়৷ তবে ১০টি বাড়ী তার হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে। পক্ষান্তরে কারো দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার একটির ভাড়া দ্বারা তার সংসার ভালভাবে চলে, তবে অন্য ফ্ল্যাটটি তার জন্য প্রয়োজনতিরিক্ত সম্পদ৷ যা নেসাবের মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৭/৫০৬ পৃষ্ঠা৷)

১৬. মাসআলাঃ
কাজের জন্য চাকর নওকর ও ব্যবহারের যানবাহন৷ যা প্রয়োজনে একাধিকও হতে পারে৷ তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে৷ অনুরুপভাবে
পেশাজীবীদের পেশার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী যেমন গরু, ট্রাক্টর, লাঙ্গল-জোয়াল, কুদাল ইত্যাদিও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১৭ মাসআলাঃ
ব্যবহারিক কম্পিউটার, ডেক্সটপ, লেপটপ ইত্যাদি হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে৷ প্রক্ষান্তরে
রেডিও-টেলিভিশন, সিডি-বিসিডি ইত্যাদি হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১৮. মাসআলাঃ
ব্যবহারিক মোবাইল, ঘড়ি, চশমা ইত্যাদি যত দামিই হোক একাধিক হলেও হাজাতে আছলিয়ার মধ্যেই গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

১৯. মাসআলাঃ
আলেম ও তালেবে এলেমের কিতাবাদি যত দামিই হোক না কেন তা হাজাতে আছলিয়ার মধ্যে গন্য হবে। তবে ব্যাবসার জন্য হলে নেসাবের মধ্যে গন্য হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৮ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৮৬ পৃষ্ঠা৷)

২০.মাসআলাঃ

যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়:

নাবালেগ ও পাগলের কুরবানী:

নাবালেগ ও পাগল নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে থেকে কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ (ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৫ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ৯/৪৭৮ পৃষ্ঠা৷)

২১. মাসআলাঃ

মুসাফিরের কুরবানী:
মুসাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে যে সকল হাজী মক্কা, মিনা ও মুযদালিফায় কুরবানীর সময় ১৫ দিন থাকবে তারা মুকীম। নেসাবের মালিক হলে হজ্বের কুরবানী ব্যতীত ঈদুল আযহার কুরবানীও তাদের উপর ওয়াজিব হবে৷ (সহীহুল বুখারী ৫৫৪৮ হাদীস৷ ইমদাদুল ফতোয়া ২/১৬৬ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে মাদানিয়া ৫/৩৪৩ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৪ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/৩৬৯ পৃষ্ঠা৷)

২২. মাসআলাঃ

ঋনগ্রস্থ ব্যক্তির কুরবানী:
ঋনগ্রস্থ ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়৷ অর্থাৎ যার সম্পদ ও ঋন সমান বা বেশী,তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়৷ তবে কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ (ফতোয়ায়ে ইউনুছিয়া ২/৫৬৩ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী জেওর ৩/২৯৬ পৃষ্ঠা৷)

২৩. মাসআলাঃ

গরিবের কুরবানী:
গরীব মিসকিন বা নেসাবের মালিক নয় এমন ব্যক্তির উপরও কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে তারা কুরবানী করলে সহীহ হবে৷ (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ৯/৬৬৭ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ২/২৩৮ পৃষ্ঠা৷)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই বিধানগুলো জেনে যথাযথ কুরবানীর মহান হুকুম পালন করার তাওফিক দিক। আমীন।

মুফতি মাহমুদ হাসান

*দারুল হাদীস (এম.এ,ইসলামিক স্টাডিস)

জামিয়াতুল আবরার বসুন্ধরা ঢাকা।

*আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ(অনার্স) ঢাকা।

*দারুল ইফতা (ইসলামিক আইন ও গবেষণা বিভাগ) ঢাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ