তাকবীরে তাশরীকের বিধি-বিধান:মুফতী মাহমুদ হাসান

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৭-৩০ ০৯:৫২:০২ || আপডেট: ২০২০-০৭-৩০ ০৯:৫২:০২

জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ।জিলহজের প্রথম দশকে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যকীয় একটি আমল তাকবিরে তাশরিক।কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- وَ اذْكُرُوا اللّٰهَ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর (আইয়ামে তাশরীকের) নির্দিষ্ট দিনগুলোতে। (সূরা বাকারা ২০৩ আয়াত৷)৩১ জুলাই /৯ জিলহাজ শুক্রবার ফজর থেকে নিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর/১৩ জিলহাজ মঙ্গলবার আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

তাই আসুন জেনে নেই তাকবীরে তাশরীকের বিধান

‘তাকবীরে তাশরীক’ এর পরিচয়:

তাকবীর শব্দের অর্থ হলো- বড়ত্ব ঘোষণা করা। আর তাশরীক শব্দের অর্থ হলো- সূর্যের আলোতে রেখে গোশত শুকানো। আরবগণ তাদের কুরবানীর গোশত ঈদের তিনদিন পর পর্যন্ত রোদে দিয়ে শুকাতো, এজন্য এ দিনগুলো আইয়ামে তাশরীক বলা হয়। তাকবীরে তাশরীক হলো- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’- বাক্য বলা।

তাকবীরে তাশরীক:

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَ اذْكُرُوا اللّٰهَ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ.

আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর (আইয়ামে তাশরীকের) নির্দিষ্ট দিনগুলোতে। (সূরা বাকারা ২০৩ আয়াত৷)

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিতأنه كان يكبر بعد صلاة الفجر يوم غرفة الي صلالعصر من آخر ايام التشريق و يكبر بعد العصر

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু নয় তারিখ আরাফার দিন ফজর থেকে তের তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবীর তাশরিক পড়তেন।( ইবনে আবী শাইবা ৫৬৭৭,বায়হাকি ৬৫০০)

তাকবীরে তাশরীকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদীসে উল্লেখ হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজনবিদিত পাঠ হল,

الله أكبر، الله أكبر،لا إله إلاالله والله أكبر،الله أكبر ولله الحمد.

অর্থঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান৷ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ মহান৷ আল্লহ মহান এবং সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য৷(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৫৬৯৬ হাদীস৷ তাবারানী শরীফ ৯৫৩৮ হাদীস৷ ইলাউস সুনান ৮/১৫৬ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৫৮ পৃষ্ঠা৷ গুনিয়াতুত তালিবীন ১৯৮ পৃষ্ঠা

তাকবীরে তাশরীকের বিধান:

তাকবীরে তাশরীক নির্ধারিত দিনসমূহে প্রতি ফরজ নামাজের পর শব্দ করে একবার পড়া ওয়াজিব। তিনবার বলার কোন ভিত্তি নেই। সুন্নত মনে করে পড়লে মাকরূহ হবে। [ফাতাওয়া নাওয়াজেল-১৪/৫৯৪]

ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﺼﺒﺢ ﻣﻦ ﻏﺪﺍﺓ ﻋﺮﻓﺔ ﻳﻘﺒﻞ ﻋﻠﻰ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﻋﻠﻰ ﻣﻜﺎﻧﻜﻢ، ﻭﻳﻘﻮﻝ : “ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻛﺒﺮ، ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﻤﺪ ” ﻓﻴﻜﺒﺮ ﻣﻦ ﻏﺪﺍﺓ ﻋﺮﻓﺔ ﺇﻟﻰ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻣﻦ ﺁﺧﺮ ﺃﻳﺎﻡ ﺍﻟﺘﺸﺮﻳﻖ، ‏( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺪﺍﺭ ﻗﻄﻨﻰ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻌﻴﺪﻳﻦ – 2/38 ، ﺭﻗﻢ 1721- )

ﺃﻣﺎ ﺻﻔﺘﻪ ﻓﺈﻧﻪ ﻭﺍﺟﺐ ﻭﺃﻣﺎ ﻋﺪﺩﻩ ﻭﻣﺎ ﻫﻴﺘﻪ ﻓﻬﻮ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻣﺮﺓ ﻭﺍﺣﺪﺓ : “ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻛﺒﺮ، ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﻤﺪ ” ‏( ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ – 1/102 )

ঈদের নামাজের পর কি তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে?

ঈদের নামাযের পরও তাকবীরে তাশরীক পড়া প্রমাণিত। তাই ঈদের নামাযের পরও তাকবীরে তাশরীক পড়বে। এটা ওয়াজিব না মুস্তাহাব এ বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে ওয়াজিব হওয়াটাই অধিক গ্রহণযোগ্য। [কিতাবুন নাওয়াজেল-১৪/৫৯৫]

ولا بأس به عقب العيد، لأن المسلمين توارثوه فوجب اتباعهم وعليه البلخيون،

قال الشامى: قوله فوجب الظاهر أن المراد بالوجوب الثبوت لا الوجوب المصطلح عليه، وفى البحر عن الجتبى: والبلخيون يكبرون عقب صلاة العيد، لأنها تؤدى بجماعة فأشبهت الجمعة، وهو يفيد الوجوب المصطلح عليه (الدر المختار مع رد المحتار-2/165)

ঈদের খুতবার সময় তাকবীরে তাশরিকের বিধান:

ঈদের খুতবা চলাকালীন উপস্থিত লোকদের জন্য সম্পূর্ণ চুপ থেকে খুতবা শোনা ওয়াজিব। তাই খুতবার সময় মুসল্লীগণ তাকবীর বলবে না; বরং চুপ থেকে খুতবা শুনবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-

وَجَبَ الْإِنْصَاتُ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاطِنَ: الْجُمُعَةِ،وَالْفِطْرِ،وَالْأَضْحَى، وَالِاسْتِسْقَاءِ.

চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব ; জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৪২)-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৩৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৫

১৷ মাসআলাঃ

৯-ই জিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩-ই জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত ৫-দিনে মোট ২৩-ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর প্রত্যেক বালিগ পুরুষ-মহিলা, মুকীম-মুসাফির, গ্রামবাসী-শহরবাসী, জামাতে নামায আদায়কারী-একাকী নামায আদায়কারী সকলের উপর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা৷ ইলাউস সুনান ৮/১৫২ পৃষ্ঠা৷ আল ফিকহুল মুয়াসসার ১৭৮ পৃষ্ঠা৷ আল হিদায়া ১/১৬৪ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ১/১১৩ পৃষ্ঠা৷ গুনিয়াতুত তালিবীন ১৯৮ পৃষ্ঠা৷)

২৷ মাসআলাঃ

তাকবীরে তাশরীক প্রত্যেক নামাযের পর একবার করে পাঠ করা ওয়াজিব৷ আর একাধিকবার পাঠ করা খেলাফে সুন্নাত তথা বিদআত৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৮ পৃষ্ঠা৷ ইমদাদুল ফতোয়া ১/৭১১ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৪/১৪২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে জামেয়া ২/৬১৭ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৬২৯ পৃষ্ঠা৷)

৩৷ মাসআলাঃ

তাকবীরে তাশরীক পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে এবং মহিলাদের জন্য নিম্নস্বরে পাঠ করা ওয়াজিব৷ সুতরাং পুরুষগণ নিম্নস্বরে এবং মহিলাগণ উচ্চস্বরে পাঠ করলে ওয়াজিব আদায় হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ৩/১৭৯ পৃষ্ঠা৷ ইলাউস সুনান ৮/১৫২ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৬৩২ পৃষ্ঠা৷)

৪৷ মাসআলাঃ

তাকবীরে তাশরীক ফরয নামাযের সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই পাঠ করা ওয়াজিব৷ সুতরাং ইমাম তাকবীর বলতে ভুলে গেলে ইমামের জন্য অপেক্ষা না করে মুক্তাদীগণের জন্য তাকবীর বলা ওয়াজিব৷ যেমন ইমাম আবু ইউসুফ রহিঃ বলেছেনঃ আমি আইয়্যামে তাশরীকের মধ্যে একবার নামাযের ইমামতি করছিলাম৷ সালাম ফিরানোর পর আমি তাকবীর বলতে ভুলে গেলাম৷ তখন আমার মুহতারাম উস্তাদ হযরত ইমাম আজম আবু হানিফা রহিঃ উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করলেন৷ তাঁর তাকবীর শুনে আমরা সবাই তাকবীর পাঠ করলাম৷ (আশরাফুল হিদায়া ১/৬৩২ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ১/১১৩ পৃষ্ঠা৷আল মুহীতুল বুরহানী ২/৫০৯ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৪৯২ পৃষ্ঠা৷ তাহতাবী ২৯৪ পৃষ্ঠা৷)

৫৷ মাসআলাঃ

মাসবুকের জন্যও তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করে সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/২৩৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ২/১৮০ পৃষ্ঠা৷ তাহতাবী ২৯৪ পৃষ্ঠা৷)

৬৷ মাসআলাঃ

তাকবীরে তাশরীকের দিনগুলোর কাযা হওয়া নামায পরবর্তীতে আদায় করলে অথবা অন্য কোনো দিনের কাযা নামায তাকবীরে তাশরীকের দিনগুলাতে আদায় করলে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব হবেনা৷ কেননা তাকবীরে তাশরীক নির্ধারিত সময়ের আমল। (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৯ পৃষ্ঠা৷ তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৪৫ পৃষ্ঠা৷ আল মুহীতুল বুরহানী ২/৫১২ পৃষ্ঠা৷ আল বাহরুর রায়িক ২/১৬৬ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬৪ পৃষ্ঠা৷)

৭৷ মাসআলাঃ

তাকবীরে তাশরীক শুধু ফরয নামাযের পর পাঠ করা ওয়াজিব৷ তাছাড়া অন্য কোন নামাযের পর পাঠ করা ওয়াজিব নয়৷ তবে উভয় ঈদের নামাযের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা মুস্তাহাব৷ এছাড়া বিতর, জানাযা, তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, আউয়াবীন ইত্যাদি নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা বিদআত৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা৷ ইলাউস সুনান ৮/১৪৮ পৃষ্ঠা৷ আশরাফুল হিদায়া ১/৬৩৩ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী গাওহার ১১/১১৭ পৃষ্ঠা৷ নুরুল ঈযাহ ১০৯ পৃষ্ঠা৷)

৮৷ মাসআলাঃ

তাকবীরে তাশরীকের কাযা নেই৷ তাই যথা সময়ে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতে না পারলে অন্য সময়ে পাঠ করা ওয়াজিব হবেনা৷ সুতরাং অনিচ্ছাকৃত তাকবীরে তাশরীক পাঠ তরক হলে গুনাহ হবেনা৷ কিন্তু ইচ্ছাকৃত তাকবীর পাঠ তরক করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৮১ পৃষ্ঠা৷ খুলাসাতুল ফতোয়া ১/২১৬ পৃষ্ঠা৷ আল মুহীতুল বুরহানী ২/৫০৯ পৃষ্ঠা৷ বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬১ পৃষ্ঠা৷)

৯৷ মাসআলাঃ

জামাতে নামায আদায়কালে সালাম ফিরানোর পর যদি সকলেই তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতে ভুলে যায়, তবে যতক্ষন মসজিদে থাকবে এবং নামায ভঙ্গ হয় এমন কোন কাজ না করবে, ততক্ষন পর্যন্ত সকলের উপরই তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব৷ আর যারা নামায ভঙ্গ হয় এমন কোন কাজ করে ফেলেছে, তাদের উপর তাকবীর পাঠের ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে৷ আর এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কোন গুনাহ বা দায়বদ্ধ হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা৷ আল মুহীতুল বুরহানী ২/৫০৯ পৃষ্ঠা৷ আল বাহরুর রায়িক ২/১৬৪ পৃষ্ঠা৷ তাহতাবী ২৯৪ পৃষ্ঠা৷)

১০৷ মাসআলাঃ

একাকী নামায আদায়কালে যদি ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতে ভুলে যায় এবং এমন কিছু কাজও করে ফেলে, যার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায়৷ যেমন নামাযের স্থান থেকে উঠে যাওয়া, ভূলে বা ইচ্ছায় কথা বলা অথবা ইচ্ছা করে অজু ভঙ্গ করা ইত্যাদি, তবে তার উপর থেকেও তাকবীর বলা রহিত হয়ে যাবে। আর এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্যও কোন গুনাহ বা দায়বদ্ধ হবেনা৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৯ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা৷ আল মুহীতুল বুরহানী ২/৫০৯ পৃষ্ঠা৷ আল বাহরুর রায়িক ২/১৬৪ পৃষ্ঠা৷)

১১৷ মাসআলাঃ

উভয় ঈদের নামাযে যাওয়া আশার সময় তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা সুন্নত৷ তবে ঈদুল ফিতরে নিম্নস্বরে এবং ঈদুল আযহায় উচ্চস্বরে পাঠ করা সুন্নত৷ (মুস্তাদরাকে হাকীম ১১০৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৬ পৃষ্ঠা৷ শরহে বেকায়া ১/৪৯০ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী গাওহার ১১/১১৬ পৃষ্ঠা৷ আল জাওয়াহারাতুন নাইয়েরা ১/৯০পৃষ্ঠা৷)

১২৷ মাসআলাঃ

উভয় ঈদের নামাযের প্রথম খুতবার শুরুতে ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে ৭ বার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা সুন্নত৷ আর ইমামের সাথে সাথে মুসল্লীদের তাকবীর পাঠ করা মুস্তাহাব৷ (ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৬৬-৩৬৭ পৃষ্ঠা৷ আল কুদুরী ১/১১১ পৃষ্ঠা৷ বেহেশতী গাওহার ১১/১১৫ পৃষ্ঠা৷)

মুফতি মাহমুদ হাসান

*দারুল হাদীস (এম.এ,ইসলামিক স্টাডিস)

জামিয়াতুল আবরার বসুন্ধরা ঢাকা।

*আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ(অনার্স) ঢাকা।

*দারুল ইফতা (ইসলামিক আইন ও গবেষণা বিভাগ) ঢাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ