‘সারা বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে’

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২২-১১-২৫ ১৯:০৮:৪৬


শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, সারা বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে আমাদের দেশের নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর যাদুকরী নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে সমৃদ্ধির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

গত দশ বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু মৌলিক এলাকায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে নাটোরের গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের চলতি আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শিল্পমন্ত্রী সব অতিথি সহযোগে চিনিকলের ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপ করে মাড়াই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপুর সভাপতিত্বে শিল্পমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মেহনতি কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণে শিল্প কারখানা জাতীয়করণ করেন। তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সার্ভিস চালু করেছিলেন। এর সুফল প্রাপ্তির আগেই তাকে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সৎ নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। করোনা সংকটসহ সব অবস্থায় অর্থনীতিকে কিভাবে সচল রাখতে হয়, তা তিনি জানেন। জনগণের প্রতি মমত্ববোধ থেকে দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এক সময় এ দেশের শিল্প কারখানা পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছিল। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ নেই। তাই বর্তমান সরকারের এ উন্নয়ন তারা সহ্য করতে পারছে না। তাদের সঙ্গে বিদেশিরাও সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পায়নে বর্তমান সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। নর্থ বেঙ্গল চিনিকলসহ দেশের অন্যান্য চিনিকলকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে উৎপাদন বহুমুখীকরণসহ কার্যকর সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, চিনি শিল্পকে লাভজনক করতে চিনিকলে কর্মরত অতিরিক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা কমানো হবে, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সরকার কৃষি যান্ত্রিকিকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে চিনি শিল্প লাভজনক পর্যায়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বকুল এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল আজম প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আখচাষি ইব্রাহিম খলিল, আনসার আলী দুলাল, সুকুমার রায় এবং শ্রমিক নেতা খন্দকার শহিদুল ইসলাম।

এ সময় তারা আখের মূল্য ১৪০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৮০ টাকা মণ নির্ধারণ করা, যথাসময়ে আখের মূল্য পরিশোধ, আখ চাষে গুণগতমানের সার সরবরাহ করায় ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে চিনিকলের উৎপাদন কার্যক্রমকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানান কৃষক ও শ্রমিক নেতারা।

চলতি মৌসুমে নর্থ বেঙ্গল চিনিকল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ ১৯ হাজার টন আখ মাড়াই করে ১৫ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চিনি আহরণের হার সাত শতাংশ।

এএ

Print Print