দুই বছরে নতুন উচ্চতায় যাবে পুঁজিবাজার

আপডেট: ২০১৫-০৯-২১ ২২:১২:৫২


DSE-Conference1আগামী দুই বছরে দেশের পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায় দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রুল হোসেন।

সোমবার বিকেলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট কনফারেন্স’ বিষয়ক সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, আগামী দুই বছরে দেখবেন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায়। সম্প্রতি পুঁজিবাজারের আইনকানুনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাড়া পাচ্ছি। আগামী দিনে বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।

আমাদের বাজারকে যদি আরও আকর্ষিত করে তৈরি করতে হয়; তবে নতুন নতুন প্রোডাক্ট বাজারে আনতে হবে। এর জন্য বিএসইসি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিএসইসির কাজ শেষ হলে জনমত যাচাই করে নতুন প্রোডাক্ট বাজারে আনা হবে।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপর রাখতে হলে পুঁজিবাজার উন্নয়নের বিকল্প নেই। কারণ পুঁজিবাজার উন্নত হলে খুব সহজে এ বাজার থেকে টাকা নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা।এখান থেকে টাকা নেওয়ার মাধ্যমে তারা বড় বড় প্রতিষ্ঠান করতে পারবেন। যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।

খায়রুল বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির প্রাণ শক্তি হলো পুঁজিবাজার। আর এই পুঁজিবাজারকে ধরে রেখেছেন ট্রেকহোল্ডাররা। যারা এই প্ল্যাটফর্মকে গড়েছেন। তাদের জন্য যে ধরণের সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তা করার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি দেশের পুঁজিবাজারের পরিবর্তনের পিছনে সরকারের বড় ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন। এই টাকা বাজারের এক দিনের লেনদেন।তবে সরকার যে পুঁজিবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক এটি হলো তার উদাহরণ।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মেধা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিএসইসির কমিশনার আরিফ খান বলেন, যে দেশের পুঁজিবাজার যত ভালো; সে দেশের অর্থনীতিও তত শক্তিশালী। কারন একটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে পুঁজিবাজার সরাসরি সম্পৃক্ত।তবে সমস্যা যে কোনো দেশের পুঁজিবাজারে আছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সমস্যার চেয়ে সম্ভাবনাটাই বেশি বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর সভাপতি বলেন, দেশে কর্মসংস্থান ও বেকার সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।এর জন্য শিল্পকারখানা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। দরকার বেশি বেশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়ন। দেশের পুঁজিবাজার এই অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ড. স্বপন কুমার বালা।

Print Print