অ্যাসোসিয়েশন অফ এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের (এএএমসিএমএফ) প্রেসিডেন্ট ড. হাসান ইমাম বলেছেন গত দশকে বাংলাদেশের সার্বিক অগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুঁজিবাজার প্রতিযোগীতা করতে পারেনি। মিউচ্যুয়াল ফান্ড মানেই প্রতি বছর লভ্যাংশ দিবে তা নয়। মেয়াদী ফান্ডগুলো দীর্ঘ সময় শেয়ার ধারে রেখে ক্যাপিটাল গেইন করে। এর মাধ্যমে তারা লভ্যাংশ দিয়ে থাকে।
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২০ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে আলোচনা অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসান ইমাম বলেন, বাজার যদি সারা বছরই নেগেটিভ থাকে তাহলে ফান্ড গুলোর শেয়ার বিক্রি করে লভ্যাংশ দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিকট পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় এ জাতীয় বিক্রি চাপ গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশে সার্বিক অর্থনীতির জন্য যে ধরনের অর্থায়ন প্রয়োজন তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ধরনের ফান্ড প্রোডাক্ট এবং বড় আকারের ফান্ড পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা। যেমন এখন আমাদের বেশীর ভাগ ফাওগুলোই ইক্যুইটি বা শেয়ার ভিত্তিক । কিন্তু নতুন দশকে প্রয়োজন বন্ড ফান্ড, ইনপ্রাস্টাক্সার ফান্ড, প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড, ইম্পেক্ট ফান্ড ইত্যাদি। তবে এই ধরনের ফান্ড সবসময় সুদ নিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদী অর্থায়নে গঠন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রভিডেন্ড ফান্ড, ইন্সুরেন্স ফান্ড এবং অন্যান্য বড় বড় ধৈর্যশীল তহবিলের বিনিয়োগ।
তিনি বলেন, এই ধরনের ফান্ড ডিজাইন এবং অপারেট করার মতো দক্ষতা লোকাল বাংলাদেশি ফান্ড ম্যানেজারদেরই আছে। এর জন্য আমাদের অনেক বিদেশী ফান্ড ম্যানেজার বা টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের প্রয়োজন নেই। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, গত তিন বছরের ডাটার ভিত্তিতে বাংলাদেশী ফান্ড ম্যানেজারদের পারফর্মাল ইউএসএ, মালয়েশিয়া এবং পার্শবর্তী ভারত,পাকিস্তানের তুলনায় ভালো।
হাসান ইমাম বলেন,পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কমিশন ইতোমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বড় দাগে এই প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডগুলোর অর্থায়নে যে ধরনের নীতিগত জটিলতা আছে; তা ছাড়ানোর জন্য সহায়তা প্রয়োজন অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী খাত শিল্প ও বিনিয়োগ পরামর্শদাতা এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্ঠার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই কাঠামোগত সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারলে পরবর্তী দশকে বাংলাদেশের সার্বিক উত্থানে ক্যাপিটাল মার্কেট একটি টেকসই এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে।