বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কমশিন কাজ করছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাজ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পেলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ খুবই প্রয়োজন। তার জন্য অর্থমন্ত্রী, অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পুঁজিবাজারে গেইমলিং হওয়ার বিষয়টি প্রায়ই শোনা যায়, এটার কারণ শুধুমাত্র প্রাইমারি আর সেকেন্ডারি মার্কেট নিয়ে চিন্তা করা। যদি বন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়েও মার্কেটে বিনিয়োগ করা হতো তাহলে এটা করার সম্ভব হতো না।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ না করে আপনারা প্রাইমারি মার্কেটে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করুন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত " ইনভেস্টর প্রটেকশন: ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ অন বিজনেস অ্যান্ড রিলেটেড ডিসক্লোজার" শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সেমিনারটি আয়োজন করে। আগারগাঁওয়ে বিএসইসির নিজস্ব কার্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমরা সুকুক বন্ড নিয়ে কাজ করছি। খুব দ্রুত এ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু এটা আমাদের বাজারে নতুন, তাই আইন কানুন সম্পর্কে সবাই অবহিত নয় এজন্য সময় লাগছে। সুকুক বন্ড নিয়ে মিডলইস্টে শিগগিরই সেমিনার করা হবে। প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে আমরা এটা করবো।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মার্কেটকে একটি লক্ষের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য ইতি মধ্যে ৭ হাজার বন্ড অনুমোদন দিয়েছি। এগুলো মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক। আমরা ভালো ভালো কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে কাজ করছি।
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, মাত্র ৪ মাস হলো আমরা পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করছি। এটা বাজার ঠিক করার জন্য খুব অল্প সময়। যেভাবে আমরা কাজ করছি, তা ধারাবাহিক ভাবে করতে পারলে আগামী দুই বছরের মধ্যে মার্কেট একটা ভালো অবস্থানে যাবে। বলা যায় মার্কেটের চেহারা চেঞ্জ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মার্কেট ভালো করার জন্য ভালো আইপিও নিয়েও কাজ করছে বর্তমান কমিশন। আইপিওর পুরনো ফাইল গুলো এক মাসের মধ্যে শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে আইপিওগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেগুলো আগে আবেদন করেছিলো। আমাদের সময়ের প্রথম আইপিওর জন্য আবেদন করেছে ব্যাংক। আমরা খুব দ্রুতই অনুমোদন দেয়ার চেষ্টা করবো। কারণ এটার অবস্থা খুব ভালো।
ট্যাক্স সুবিধা দিয়ে বিদেশি কোম্পানিসহ বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানি মার্কেটে নিয়ে আসার কাজ চলছে জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, মার্কটে দুষ্ট লোকের আগমন কমেছে। পুঁজিবাজারে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স যত ভালো হবে, দুষ্টুলোকের আগমন তত কমবে। আমরা সে দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কনসাল্টেন্ট হোসেন সামাদ, সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। এ সময় বিএসইসির ৪জন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।