সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগ যুবলীগের সংঘর্ষ, নিহত এক
প্রকাশ: ২০১৫-১২-২১ ১৯:৪৮:৪৯

মেঘনা নদীর বালু মহালের নিয়ন্ত্রন ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরহোগলা গ্রামে সোমবার আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়ীঘর ও দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও তিনজন নিখোঁজ সহ ২৫ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরহোগলা গ্রামে মেঘনা নদীর বালু মহালের নিয়ন্ত্রন ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একই ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদের প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতা নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে তার সমর্থক জানে আলম, খোকন মিয়া, মোসলেম মিয়া, সোহেল মিয়াসহ ৪০/৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী বাহিনী পিস্তল, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্রেসজ্জিত হয়ে যুবলীগ নেতা হারুন অর রশিদের সমর্থকদের উপর গুলি চালায়। যুবলীগ কর্মী জামাল হোসেন (৩২) সুমন মিয়া (৩৩) আলমগীর হোসেন (৩৫) ও সাইফুল ইসলাম (২৮) গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই যুবলীগ কর্মী জামাল হোসেন মারা যান। নিহত জামাল হোসেন চরহোগলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
এ সময় তাওলাদ হোসেন, ফারুক মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, সুমন মিয়া, সাইফুল ইসলাম, রুহুল আমিন, পিন্টু মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, সুমন মিয়া, আলমগীর হোসেন, নাসির উদ্দিন, ফারুক মিয়া, নবীল হোসেন, রাজিব মিয়া, কায়সার মিয়া সহ কমপক্ষে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে ১০টি ঘর বাড়ি ও ৮টি দোকানপাটে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় তারা। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ, মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাচঁ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর থেকে সুমন মিয়া, আলমগীর হোসেন ও সাইফুল ইসলাম নিখোজঁ রয়েছে। পরে এলাকায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সমর্থ হয়।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা হারুন অর রশিদ জানান, বালু মহালের নিয়ন্ত্রন ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ নেতা নাসির উদ্দিনের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে গুলি করে আমার এক সমর্থককে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তিন কর্মীকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যার পর লাশ গুম করে রেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার সমর্থকদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। অপরদিকে আওয়ামীলীগ নেতা নাসির উদ্দিন জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তার কর্মীরা জড়িত থাকলেও তিনি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। গুলিবিদ্ধ অপর তিন জনকে খুজে বের করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













