উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ভয় নাই ওরে ভয় নাই/নিঃশেষে প্রাণ, যে করিবে দান/ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই;
এই কারনেই নিঃশঙ্ক চিত্তে পৈশাচিক খুনিদের উদ্ধত বেয়নেটের সামনে বুক পেতে তারা দেশমাতৃকার ঋণ শোধ করেছিলেন রক্তের দামে। আজ ৪৫ বছর পর কলঙ্কিত ওই দিনটিতে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করবে বাংলা মায়ের ইতিহাস তৈরির চার সন্তানকে।
তাঁরা হলেন- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম. মনসুর আলী, খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
জেলহত্যা দিবস বাঙালি জাতির জীবনে এক কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে। ১৫ আগস্ট কালো রাত্রিতে সপরিবারে নির্মমভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরই খুনি মোশতাক-জিয়াচক্র কারান্তরালে এই জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করেছিল। তাদের হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও চেতনাকে নির্মূল করা।
এজন্য বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ সুদীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনিচক্র এবং তাদের হত্যার রাজনীতিকে পরাজিত করেছে। ইতিহাসের বেদনাবিধূর এই দিনে সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ নেবে জাতি।
সানবিডি/নাজমুল/১২:৩৩/০৩.১১.২০২০