পরিবেশবাদী সংগঠন "ক্লিন গ্রীন বাংলাদেশ" এর ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন এবং পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রাঙ্গনে "ক্লিন গ্রীন বাংলাদেশ" ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কবি কাজী মোঃ ওয়াজেদ উল্লাহ্। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কাউন্সিলর দাউদ আলম শ্যামল, নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন এবং নবীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ইনচার্জ ও সাব অফিসার মোঃ সামসুল হক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কবি কাজী মোঃ ওয়াজেদ উল্লাহ্ বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র আজ দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশে বিদেশে এদেশের অগ্রগতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনার মাঝে যে কিছু সমালোচনা নেই তা কিন্তু নয়। এই সমালোচনার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশ দুষন, বায়ু দুষন, শব্দ দুষণ, ঢাকার যানজট ও গাড়ির হর্ণের তীব্র শব্দ ইত্যাদি।

আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, “ক্লিণ গ্রিণ বাংলাদেশ” একের পর এক যেভাবে তাদের নয়টি শাখার মাধ্যমে দেশব্যাপি পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গার্ডেনিং কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।
পরিবেশ ও বায়ু দুষনের হাত থেকে এদেশকে বাঁচতে হলে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আজকে “ক্লিণ গ্রিণ বাংলাদেশ” এর নবীনগর শাখা সিজিবি’র ১ম বর্ষ পুর্তি পালন করছে। এখানে একটি জিনিষ আমি লক্ষ করেছি যে, তারা শুধু কেক কেটে, আনন্দ ফুর্তি করেও অনুষ্ঠানটি উদযাপন করতে পারতো! কিন্ত তা না করে তারা পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালন করছে।

আমি “ক্লিণ গ্রিণ বাংলাদেশ” এর সফলতা কামনা করছি। “ক্লিণ গ্রিণ বাংলাদেশ” এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী জি এম কিবরিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ১লা নভেম্বর “ক্লিন গ্রীন বাংলাদেশ” ঢাকায় একটি রাস্তা পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পালনের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছিল। শুরু থেকেই সামাজিক সংগঠন "গরিব ফাউন্ডেশন" সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করেছে।
দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসাবে সিজিবি তার ৯ টি ইউনিট যেমনঃ ১। ঢাকা, ২। চট্টগ্রাম, ৩। সিলেট, ৪। রাজশাহী, ৫। চুয়াডাঙ্গা, ৬। কুষ্টিয়া, ৭। বগুড়া, ৮। তিতাস, কুমিল্লা, এবং ৯। নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর মাধ্যমে বিগত এক বছরে মোট ৪টি কর্মসূচি পালন করেছে এবং করোনা কালিন সময়ে সর্বমোট ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার ২০৪ টাকার খাদ্য সামগ্রী দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তাছাড়াও এই করোনার পরিস্থিতিতেও সিজিবির স্বেচাছাসেবীরা কিন্তু ঘরে বসে নেই। সিজিবি ২০২০ সালে ২০২০ টি গাছ লাগানোর টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সিজিবি মোট ৫টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে। তার মধ্যে নবীনগর ইউনিটই ৩টি কর্মসূচি পালন করেছে। এজন্য আমি সিজিবি নবীনগরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তাছাড়াও তিনি বলেন যে, “এই এক বছরের মধ্যেই সিজিবির যেভাবে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে, যেভাবে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা পেয়েছে, তা অনন্য। সেজন্য আমাদের দায়বদ্ধতাও বেড়ে গেল। আমি আপনাদের মাধ্যমে সিজিবির সুহৃদদেরকে বলতে চাই, আপনাদের আস্থা ও ভালবাসার মর্যাদা অটুট রাখতে আবারও আমরা অঙ্গীকারাদ্ধ।

নবীনগর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আল মামুনের সভাপতিত্বে এবং ক্লিণ গ্রিণ বাংলাদেশ, নবীনগর ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী আবদুর রহমানের সন্ঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সিজিবি নবীনগর ইউনিটের সমন্বয়কারী ওবায়দুল মাসুম, শামীম, আনিসুর রহমান প্রমূহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক দিদার হোসের পান্থ প্রমূহ।
বক্তাগণ তাদের বক্তৃতায় বলেন “ক্লিণ গ্রিণ বাংলাদেশ” ও “গরিব ফাউন্ডেশন” এই করোনা কালীন সময়েও যেভাবে মানুষের পাশে দাড়িয়েছে এবং বিগত একটি বছর ধরে যেভাবে সারাদেশের মানুষকে তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করে তুলছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।” নবীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রাঙ্গননে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপন ও হাত ধোয়া কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানির পরিসমাপ্তি ঘটে।