না ফেরার দেশে চলে গেলেন সেগুফতা বখ্ত চৌধুরী, যিনি এসবি চৌধুরী নামেই পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ছিলেন। বুধবার(১১ নভেম্বরর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন(ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যান হিসেবেও। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন কর্মজীবনে।
বুধবার রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে তারা নামাজে জানাযা অনুষ্টিত হওয়ার কথা রয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
প্রসঙ্গত, সেগুফতা বখ্ত চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্থ গভর্নর। তিনি ১৯৮৭ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নতক এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪র্থ গভর্নর হিসেবে ১৯৮৭ সালের ১২ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যুরোর চীফ কন্ট্রোলার ছিলেন। তিনি অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রেভিন্যু ডিভিশনের (আইআরডি) সচিব ছিলেন। গভর্নরের দায়িত্ব পালনের পূর্বে তিনি ১৯৮৩-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৩১ সালে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন দেওয়ান মামুন চৌধুরী এবং দাদা ছিলেন খান বাহাদুর ওয়াসিল চৌধুরী। তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাগ্নে।
পেশাগত জীবনে মরহুম এস. বি চৌধুরী ধীর, স্থির, মেধা, দক্ষতা ও মননশীলতায় ছিলেন অনন্য। আর্থিক খাতের কর্ণধার হিসেবে তিনি উদ্ভূত সমস্যাদি দায়িত্বশীলতার সাথে মোকাবেলা করেন। তাঁর মৃত্যুতে বর্তমান গভর্নর ফজলে কবির গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন সুচিন্তক, মেধাবী, সততা ও দক্ষতায় অনন্য মরহুম এস. বি চৌধুরী আর্থিক খাতের সংস্কার সাধনে এদেশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমগ্র ব্যাংক পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।