সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া মার্কিন সাধারণ নির্বাচনে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে দেশটির রাজনীতিতে। এই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন কমলা হ্যারিস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে শুরু হতে যাচ্ছে বাইডেন-কমলার নতুন অধ্যায়। আর এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের টালমাটাল চার বছরের শাসনামলের। বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের পালাবদল জ্বালানি খাতে মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। কেননা ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের অনেক নীতি থেকে সরে এসেছিলেন। তেমনি বাইডেনের হাত ধরে দেশটির ফের আগের উদারনৈতিক নীতিতে ফিরে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি খাতেও গুরুত্ব পেতে পারে পরিবেশ সুরক্ষার ইস্যু।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ অর্থনীতির দেশে ক্ষমতার পালাবদল নীতির প্রশ্নে খুব একটা পরিবর্তন আনে না। তবে এবারের প্রশ্নটা আলাদা। কেননা ক্ষমতা ছাড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি জ্বালানি বাণিজ্যের খোলনলচে বদলে দিয়েছিলেন। ওবামার আমলে হাতে নেয়া বিভিন্ন নীতি ছুড়ে ফেলে নিজের মতো করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছিল তার। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার কিংবা অবরোধ আরোপের মধ্য দিয়ে মার্কিন আধিপত্য সম্প্রসারণের পথে হেটেছেন ঝানু এ ব্যবসায়ী। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিকাশ মূল উদ্দেশ্য হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা শাপে বর হয়েছে। বিশেষত পরিবেশ সুরক্ষার ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে ট্রাম্পের গৃহীত নীতি।
জো বাইডেন বরাবরই উদারপন্থী। তাই ট্রাম্পের একচেটিয়া বাণিজ্য নীতি থেকে সরে আসতে পারেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে জ্বালানি খাতে। বাইডেন পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়নের পক্ষে সোচ্চার। জ্বালানি খাতেও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে তিনি বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। জ্বালানি বাণিজ্যের প্রশ্নে এটি ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে ব্যবধান গড়েছে।
সানবিডি/এনজে/৫:২৮/১১.১১.২০২০